ফুটবল খেলা ঘিরে ভৈরবে তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ২০

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:৪৯ অপরাহ্ণ   |   ৪১ বার পঠিত
ফুটবল খেলা ঘিরে ভৈরবে তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ২০

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে টানা তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের মধ্যেরচর গ্রামে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। বেলা দুইটার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
 

আহতদের মধ্যে সেলিম মিয়া (৩৫), ওয়াসকুরুনী (৪৫), জিনিয়া বেগম (২৪), ইমন মিয়া (২২), সাদ্দাম মিয়া (৩০), সাঝু মিয়া (৫৪), সবুজ মিয়া (৩৩), শরীফ মিয়া (২৫), মাহবুল মিয়া (৩৪), পাবেল মিয়া (২৬), ইকবাল হোসেন (৫১) ও সালমান ফরাজি (১৭) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসক আব্দুল করিম জানান, গুরুতর অবস্থার কারণে সবুজ মিয়া ও সাদ্দাম মিয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা ও কিশোরগঞ্জে পাঠানো হয়েছে।
 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্যেরচর একাডেমির উদ্যোগে কয়েকদিন ধরে স্থানীয় মাঠে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছিল। শুক্রবার বিকেলে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল ম্যাচে ভাটিকৃষ্ণনগর একাদশ ও মধ্যেরচর কলেজপাড়া একাদশ মুখোমুখি হয়। খেলায় প্রথমে কলেজপাড়া একাদশ গোল করলেও কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ভাটিকৃষ্ণনগর একাদশ দুটি গোল দেয়। এ সময় মাঠেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। টুর্নামেন্ট কমিটি হস্তক্ষেপ করলে বিষয়টি তর্কাতর্কি থেকে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে ভৈরব থানা পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় রাতেই পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।
 

শনিবার সকালে দুই পক্ষকে নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মীমাংসার উদ্যোগ নিলেও আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ উত্তেজিত হয়ে বেরিয়ে যায়। পরে মধ্যেরচর পশ্চিমপাড়া ও পূর্বপাড়ার বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পশ্চিমপাড়ার পক্ষে বড়বাড়ির লোকজন এবং পূর্বপাড়ার পক্ষে কলেজপাড়ার লোকজন নেতৃত্ব দেন। কলেজপাড়ার সঙ্গে পাঁচবাড়ি, আলগা বাড়ি ও উলাইস্যা বাড়ির লোকজনও যোগ দেন। টানা তিন ঘণ্টা সংঘর্ষ চলার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এইচ.এম. আজিমুল হকের নেতৃত্বে ভৈরব থানা পুলিশ ও ভৈরব সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়।
 

শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আল আমিন মিয়া বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় শুক্রবার পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছিল। শনিবার সকালে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
 

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ জানান, শুক্রবার সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করেছিল। শনিবার পুনরায় সংঘর্ষে জড়ালে ছয়জনকে আটক করা হয়। তিনি আরও বলেন, পুলিশকে না জানিয়ে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।