|
প্রিন্টের সময়কালঃ ১৭ মে ২০২৬ ০৭:৪০ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ১৭ মে ২০২৬ ০৩:১০ অপরাহ্ণ

সুখী থাকতে জীবনযাত্রায় আনুন ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তন


সুখী থাকতে জীবনযাত্রায় আনুন ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তন


অনলাইন ডেস্ক

 

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে মানুষ প্রতিনিয়ত ব্যস্ত হয়ে পড়ছে নানা কাজ ও দায়িত্বে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজের চাপে ছুটতে ছুটতে অনেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। এর প্রভাব পড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ ও সুখী থাকতে জীবনযাত্রায় ছোট কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনা জরুরি।
 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মানসিক শান্তি ও ভালো থাকার জন্য সবসময় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। বরং দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললেই ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
 

নোটিফিকেশন নয়, শ্বাস-প্রশ্বাস দিয়ে দিন শুরু

বর্তমানে অনেকেই ঘুম থেকে উঠেই ফোন হাতে নেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা নোটিফিকেশন দেখতে শুরু করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস মানসিক শান্তি নষ্ট করে। এর পরিবর্তে সকালে কয়েক মিনিট গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে মন শান্ত থাকে, মানসিক চাপ কমে এবং শরীর সতেজ অনুভূত হয়।
 

ধ্যান মানসিক প্রশান্তি বাড়ায়

শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, মানসিক সুস্থতা অনেক সময় ততটা গুরুত্ব পায় না। প্রতিদিন অন্তত পাঁচ মিনিট নীরবে বসে ধ্যান করলে মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায়। চোখ বন্ধ করে শ্বাস-প্রশ্বাসের ওপর মনোযোগ দিলে আবেগ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং মন ধীরে ধীরে প্রশান্ত হয়।
 

যোগব্যায়াম কমায় শারীরিক ও মানসিক চাপ

ব্যস্ত জীবনের চাপ শরীরেও প্রভাব ফেলে। অনেকের কাঁধ শক্ত হয়ে যায়, পিঠে ব্যথা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত যোগব্যায়াম শরীরে জমে থাকা মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন সকালে অল্প সময়ের স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম শরীর ও মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে।
 

সচেতনভাবে খাবার খাওয়ার অভ্যাস

বর্তমানে অনেকেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে করতে বা কাজের ফাঁকে তাড়াহুড়ো করে খাবার খান। এতে খাবারের স্বাদ ও উপকারিতা পুরোপুরি পাওয়া যায় না। ধীরে ধীরে খাবার চিবিয়ে এবং মনোযোগ দিয়ে খেলে খাবারের প্রতি সচেতনতা বাড়ে, যা শরীর ও মনের জন্য উপকারী।
 

নিজের জন্য সময় রাখা জরুরি

দিনভর কাজের ব্যস্ততায় মানুষ নিজের জন্য সময় রাখতে ভুলে যায়। তবে ভালো থাকতে ব্যক্তিগত সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বই পড়া, গান শোনা, বাগান করা কিংবা নিরিবিলি কিছু সময় কাটানো মানসিক প্রশান্তি এনে দিতে পারে।
 

কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে দিন শেষ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমানোর আগে দিনের ভালো মুহূর্তগুলো স্মরণ করা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে মন শান্ত থাকে এবং ইতিবাচক চিন্তাভাবনা বাড়ে।
 

ভারসাম্যপূর্ণ জীবন মানেই নিখুঁত জীবন নয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারসাম্যপূর্ণ জীবন মানে প্রতিদিন নিখুঁতভাবে চলা নয়। বরং কাজের পাশাপাশি নিজের মানসিক শান্তি, আনন্দ ও ব্যক্তিগত সময়কে গুরুত্ব দেওয়াই হলো সুস্থ ও সুখী জীবনের মূল চাবিকাঠি।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬