|
প্রিন্টের সময়কালঃ ১৬ মে ২০২৬ ০৬:২৭ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ১৬ মে ২০২৬ ০৫:০৯ অপরাহ্ণ

শাহ আলী মাজারে হামলা-ভাঙচুর, জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ


শাহ আলী মাজারে হামলা-ভাঙচুর, জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ


নিউজ ডেস্ক, ঢাকা প্রেস

 

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত হজরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) মাজারে ওরস চলাকালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। হামলায় স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে জামায়াত।
 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ১টার দিকে একদল লোক লাঠিসোটা নিয়ে মাজারে প্রবেশ করে জিয়ারতকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক ব্যক্তি লাঠি হাতে মাজারে ঢুকে মারধর ও ভাঙচুর চালাচ্ছেন। তাদের কয়েকজনের মুখে মাস্কও ছিল।
 

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার জানান, হামলাকারীদের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের কিছু নেতাকর্মী ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ ওই ঘটনায় কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি বলেও তিনি দাবি করেন।
 

দারুস সালাম অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইমদাদ হোসেন বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার মাজারে বড় ধরনের অনুষ্ঠান হয় এবং অনেক মানুষ সেখানে জড়ো হন। ওই রাতে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি বলেন, মাজারের ভেতরে একটি দল মাদক সেবন করছিল—এমন অভিযোগে জিয়ারতকারীদের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে স্থানীয় কিছু লোকজন তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে হামলায় অংশ নেয়।
 

হামলায় জামায়াত-শিবিরের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তিনি বলেন, ভিডিওতে তাদের কয়েকজনকে দেখা গেলেও পুরো ঘটনাটি তাদের নেতৃত্বে হয়েছে—এমনটি নিশ্চিত নয়।
 

এ ঘটনায় শুক্রবার পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুস সবুর জানান, ওরস চলাকালে হঠাৎ লাঠিসোটা হাতে একদল লোক মাজারে ঢুকে উপস্থিত লোকজনকে মারধর শুরু করে। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় মাজারের বাইরে পুলিশের কয়েকটি গাড়ি থাকলেও তারা ভেতরে প্রবেশ করেনি।
 

অন্যদিকে, ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াতের এমপি মীর আহমদ বিন কাসেম দাবি করেছেন, মাজার এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছিল পুলিশ এবং সেখানে তার দলের কোনো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন না। তবে এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এমপির সঙ্গে তার কোনো কথা হয়নি।
 

জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার বলেন, শাহ আলী মাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের দলকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও শাহ আলী মাজার এলাকায় মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহেও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছিলেন।
 

এদিকে গবেষণা প্রতিষ্ঠান মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী ১৭ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৯৭টি মাজার, দরগাহ ও খানকাহে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লা, নরসিংদী ও ঢাকায়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব ঘটনায় তিনজন নিহত এবং অন্তত ৪৬৮ জন আহত হয়েছেন।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬