টক দইয়ের সঙ্গে চিনি-লবণ মেশানো কি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়?
অনলাইন ডেস্ক
টক দই অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এর স্বাভাবিক টক স্বাদ পরিবর্তনের জন্য অনেকেই এতে চিনি বা লবণ মিশিয়ে খান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস দইয়ের উপকারিতা কমিয়ে দিতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টক দই প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার। এতে থাকা উপকারী জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া পরিপাকতন্ত্রকে সচল রাখতে এবং খাবার হজমে সহায়তা করে। কিন্তু চিনি বা লবণ মেশালে দইয়ের রাসায়নিক গঠন ও পুষ্টিগুণে পরিবর্তন আসতে পারে।
চিনি মেশালে কী হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চিনি দইয়ের অম্লতা বা পিএইচ মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে দইয়ে থাকা উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। এতে দই খাওয়ার মূল স্বাস্থ্যগত উপকারিতা হ্রাস পায়।
এ ছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী হিসেবে বিবেচিত টক দইয়ে চিনি যোগ করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে চর্বি জমার ঝুঁকিও বাড়ায়, যা স্থূলতার কারণ হতে পারে।
লবণ মেশানোর প্রভাব
লবণের প্রধান উপাদান সোডিয়াম। টক দইয়ে স্বাভাবিকভাবেই কিছু সোডিয়াম থাকে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ যোগ করলে শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, যা উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, অতিরিক্ত লবণ মেশানো দই কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বদহজম, বুকজ্বালা ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যার কারণ হতে পারে।
টক দই খাওয়ার সঠিক উপায়
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, টক দই সবচেয়ে ভালো হয় প্রাকৃতিক অবস্থায় বা কোনো কিছু না মিশিয়ে খেলে। এতে দইয়ের পূর্ণ পুষ্টিগুণ ও প্রোবায়োটিক উপকারিতা পাওয়া যায়।
তবে যাদের টক স্বাদ গ্রহণে সমস্যা হয়, তারা পরিমিত পরিমাণ মধু কিংবা আপেল, কলা, বেদানা ও স্ট্রবেরির মতো মিষ্টি ফল মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে স্বাদ যেমন বাড়বে, তেমনি ফলের অতিরিক্ত পুষ্টিগুণও পাওয়া যাবে।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬