আ.লীগ নেতাদের সঙ্গে ইউএনও’র বৈঠকের ছবি ঘিরে মাধবপুরে আলোচনা-সমালোচনা
নাজির মিয়া, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইউনুস জাহিদ বিন কাসেমকে ঘিরে ফের আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাসাদ্দুক আহমেদের সঙ্গে একটি বৈঠকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা দেয়।
তবে এ বিষয়ে ইউএনও ইউনুস জাহিদ বিন কাসেম দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতাকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানাননি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে তাকে ডাকা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতার সঙ্গে ইউএনও’র বিভিন্ন বৈঠক ও অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে জগদীশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সঙ্গে ইউএনও’র কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠক এবং যুবলীগ নেতা ও পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর পাল সুমনের উপস্থিতিতে পূজা প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাও আলোচনায় আসে।
এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত চৌমুহনী খুরশিদ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, দোকান ভাড়া অনিয়ম ও শিক্ষক বৈষম্যের অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া গিলাতলী মন্দিরের সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা হরিশ চন্দ্রের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনও’র কাছে তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়া হলেও দীর্ঘদিনেও তা জমা হয়নি বলে জানা গেছে।
পূজা উদযাপন সংক্রান্ত অনুদানের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে। এসব বিষয়েও প্রশাসনের নিরবতা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগের কিছু নির্বাচিত চেয়ারম্যান নিরাপত্তাহীনতার কারণে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে না পারলেও মামলার আসামি হয়েও কয়েকজন চেয়ারম্যান নিয়মিত অফিস করছেন। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
উপজেলা যুবদলের নেতা সাইফুর রহমান টিটু অভিযোগ করে বলেন, “ইউএনও তার পছন্দের লোকজনকে নিয়েই চলেন। বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। অথচ আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে মনে হয়। যোগাযোগ রাখতে হলে সবার সঙ্গেই রাখা উচিত।”
অন্যদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের একাংশ অভিযোগ করেন, ইউএনও কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। তাদের দাবি, জামায়াতে ইসলামীর একটি কর্মসূচির জন্য হল ভাড়া চাওয়া হলেও অনুমতি দেওয়া হয়নি। এছাড়া তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পর সময়মতো জবাব না পাওয়া এবং আবেদনকারীদের হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।
মাধবপুর মডেল প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি বিশ্বজিৎ পাল বলেন, “তথ্য অধিকার ও বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে অসংখ্য আবেদন দিয়েছি। কিন্তু কার্যকর সাড়া পাইনি। ব্যক্তি হিসেবে তাকে দোষারোপ করছি না, তবে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের চাপে সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে না বলে মনে হচ্ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও ইউনুস জাহিদ বিন কাসেম বলেন, “তাসাদ্দুক মাস্টারের বিষয়টি রাজনৈতিক ছিল না। পূজা উদযাপন পরিষদের অনিয়মের বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।” তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক বা অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে ইউএনও ইউনুস জাহিদ বিন কাসেমকে বিশ্বনাথ উপজেলায় বদলির আদেশ দেওয়া হয়। তবে জেলা প্রশাসকের আনুষ্ঠানিক রিলিজ না পাওয়ায় তিনি এখনও মাধবপুরে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেক সময় কর্মকর্তারা পরিস্থিতিরও শিকার হন।”
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬