|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০১ আগu ২০২৬ ০৪:৪২ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০১ আগu ২০২৬ ০৩:১৯ অপরাহ্ণ

কাঁচামাল সংকট ও ব্যাংক হিসাব জব্দ: চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ, বেকার আরও ৬ হাজার শ্রমিক


কাঁচামাল সংকট ও ব্যাংক হিসাব জব্দ: চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ, বেকার আরও ৬ হাজার শ্রমিক


আবদুল হাকিম রানা, বিশেষ প্রতিনিধি (দক্ষিণ চট্টগ্রাম):

 

 

ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং নতুন এলসি (ঋণপত্র) খুলতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে পড়ে চট্টগ্রামের আলোচিত এস আলম গ্রুপের ১১টি শিল্পকারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শনিবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত সাড়ে ৪ হাজার থেকে প্রায় ৬ হাজার কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন।

 

ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পক্ষে কারখানা প্রাঙ্গণে নোটিশ টাঙিয়ে উৎপাদনের কার্যক্রম বন্ধের এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়।

 

যেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলো

বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • রিফাইন্ড সুগার মিল

  • সিমেন্ট ও ব্যাগ ফ্যাক্টরি

  • অ্যাডভান্সড অয়েল ও ভেজিটেবল অয়েল

  • এস আলম স্টিল ও কোল্ড রোল্ড স্টিলস

  • চেমন ইস্পাত

  • পাওয়ার প্ল্যান্ট ও পশুখাদ্য উৎপাদনকারী কারখানা

 

তবে এস আলম গ্রুপের অধীনে থাকা বাঁশখালীর ‘এস এস পাওয়ার প্ল্যান্ট’-এর উৎপাদন কার্যক্রম যথারীতি চালু থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

কাঁচামাল সংকট ও জনবল ছাঁটাই

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকা এবং নতুন করে কাঁচামাল আমদানির জন্য এলসি খুলতে না পারায় কারখানাগুলোতে তীব্র কাঁচামাল সংকট দেখা দেয়। একপর্যায়ে উৎপাদন অব্যাহত রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে কারখানা বন্ধের পথ বেছে নেয় কর্তৃপক্ষ।

 

উৎস অনুযায়ী, দুই বছর আগেও এসব কারখানায় প্রায় ৮ হাজার কর্মী কর্মরত ছিলেন। কিন্তু আর্থিক সংকট ও কাঁচামাল স্বল্পতার কারণে ধাপে ধাপে জনবল কমানো হয়। সর্বশেষ কর্মরত অবশিষ্ট সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার কর্মীকেও একযোগে ছাঁটাই করা হলো। তবে কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ও বৈদ্যুতিক রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের কিছু কর্মী এখনো দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।

 

কর্তৃপক্ষের দাবি, চাকুরিচ্যুত কর্মীদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য সব পাওনাদি নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধ করা হয়েছে।

 

চাটগাঁজুড়ে আতঙ্ক ও মানবিক বিপর্যয়

কারখানা বন্ধের খবরে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়াসহ পুরো অঞ্চলে এক ধরনের হাহাকার ও চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, ব্যাংক খাতের অস্থিরতার পর এস আলম গ্রুপের এসব শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়ায় এ পর্যন্ত অঞ্চলটির প্রায় ২০ হাজার মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।

 

হঠাৎ চাকরি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়া কর্মীরা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় ইনসাফ ও মানবিক দিক বিবেচনা করে অবিলম্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো চালু করা এবং চাকরিচ্যুত কর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬