ছয়জন রিমান্ডে, অস্ত্র সরবরাহকারীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের মিন্টো রোড কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। রোববার আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের সরবরাহকারীদের এখনো শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
রিমান্ডে নেওয়া ছয়জন হলেন—শাহরিয়ার মাহমুদ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের নেতা শাহ আলম অনিক, কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আব্দুর গফুরের জামাতা মিজানুর রহমান, ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা মো. মামুন ও মো. মুন্না এবং অটোরিকশাচালক আসলাম।
ডিবির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খান জানান, ছয় আসামিকে ডিবি কার্যালয়ে এনে হামলার ঘটনা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১১টার দিকে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নিউগিনি আবাসন প্রকল্প ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। হামলাকারীরা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই সময় অন্তত ৫০টি গুলি ছোড়া হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, হামলার প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা আগে ইসিবি চত্বরের একটি রেস্তোরাঁয় শাহরিয়ার মাহমুদ, ক্যান্টনমেন্ট থানা জামায়াতে ইসলামীর রুকন আবুল কাশেমসহ ১৪ জন বৈঠক করেন। বৈঠকের ছবি তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। সেখানে বিকাশ কুমার নামে এক ঠিকাদারকেও শনাক্ত করা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত শুধু শাহরিয়ার মাহমুদ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানিয়েছে সূত্র।
পুলিশের ধারণা, হামলায় অংশ নেওয়া অনেককে ভাড়ায় আনা হয়েছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কয়েকজন ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক। হামলাকারীদের একটি অংশকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে আবাসন প্রকল্পে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
এদিকে তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, হামলায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র বৃহত্তর মিরপুর এলাকার কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছ থেকে সরবরাহ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে অস্ত্রগুলো এখনো উদ্ধার হয়নি এবং সরবরাহকারীরাও রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
অন্যদিকে, মামলার চার নম্বর আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর তিন দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ায় রোববার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক) | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬