|
প্রিন্টের সময়কালঃ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৪৬ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার পরামর্শ আইএমএফের


মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার পরামর্শ আইএমএফের


অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে আর্থিক খাতের সংস্কার ও রাজস্ব আয় বাড়ানোর তাগিদ
 

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শুধু কঠোর মুদ্রানীতি যথেষ্ট নয়। এ জন্য আর্থিক খাতের সংস্কার, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।
 

আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলমান মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় মুদ্রানীতির পাশাপাশি কাঠামোগত সংস্কার জরুরি বলে মনে করছে সংস্থাটি।
 

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক সোনালি জৈন চন্দ্র।
 

দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু কঠোর মুদ্রানীতি যথেষ্ট কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর পাশাপাশি অন্যান্য সংস্কারও প্রয়োজন। বাংলাদেশ বর্তমানে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাতের দুর্বলতা ও মূল্যস্ফীতি—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
 

দুর্বল আর্থিক খাত নিয়ে উদ্বেগ

বাংলাদেশের আর্থিক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমএফ। সংস্থাটির মতে, দেশের আর্থিক খাত অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে খাতটির সক্ষমতা বৃদ্ধি, কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।
 

এ জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর সংস্কার কৌশল গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। আইএমএফের মতে, আর্থিক খাতের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধান এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হবে।
 

রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ শতাংশ

বাংলাদেশের দুর্বল রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতিও আইএমএফের উদ্বেগের অন্যতম কারণ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ধারাবাহিকভাবে কমেছে। বর্তমানে এ অনুপাত প্রায় ৭ শতাংশ, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন অনুপাতগুলোর একটি।
 

আইএমএফ মনে করে, সরকারের উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহ, আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করা এবং অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজস্ব আয় বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য রাজস্ব ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার এবং কর আহরণ বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
 

সংস্থাটির মতে, রাজস্ব আহরণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। এতে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের অর্থায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।
 

নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত

এদিকে বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সোনালি জৈন চন্দ্র জানান, আগের কর্মসূচির আওতায় আর ঋণের কিস্তি না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর গত মে মাসে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আইএমএফের সহায়তায় নতুন একটি কর্মসূচির অনুরোধ জানায়।
 

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাইয়ে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে। ওই সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় উঠে আসা সংস্কারের বিষয়গুলো চলতি বছরের আর্টিকেল ফোর পরামর্শে দেওয়া সুপারিশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
 

জুলাইয়ের সফরের পর থেকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আইএমএফের নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সোনালি জৈন চন্দ্র বলেন, বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে সংস্থাটির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে আইএমএফ আগ্রহী।
 

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা দূর করতে কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬