আমু-দীপু মনিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ, শিগগির অভিযোগপত্র
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রও প্রস্তুত করা হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটরের অনুমোদন পাওয়ার পর শিগগিরই ট্রাইব্যুনালে তা দাখিল করা হবে।
রোববার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
তিনি বলেন, দীর্ঘ তদন্ত শেষে আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন সাবেক এমপি ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটরের অনুমতি সাপেক্ষে তা দ্রুত ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হবে।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, এই তালিকায় সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, লে. কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, ড. আবদুর রাজ্জাকসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। তারা বর্তমানে কারাগারে আছেন।
তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২৫ অক্টোবর
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য রয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, অতিউৎসাহী হয়ে ‘মিথ্যা’ খবর প্রচার, ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন এবং অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনার মতো সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কাউকে আসামি করার ক্ষেত্রে তার পেশা বিবেচনা করা হয়নি। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে, তাদেরই আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের উদাহরণ দিয়ে তামিম বলেন, তাঁকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নয়, একজন নাগরিক হিসেবে আইন অমান্যের অভিযোগে আসামি করা হয়েছে।
প্রসিকিউটরের দাবি, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশজুড়ে হত্যাযজ্ঞ চলার মধ্যে কিছু সাংবাদিক তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। একই সময়ে কিছু গণমাধ্যমে সঠিক তথ্যের পরিবর্তে বিভ্রান্তিকর খবর প্রচারের অভিযোগও রয়েছে।
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত
রাজনৈতিক দল বা সংগঠন হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তবে তদন্ত কবে শেষ হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর তামিম।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা এবং দলটির বিভিন্ন শাখা-উপশাখা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তামিমের ভাষ্য, দেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো রাজনৈতিক সংগঠন এ ধরনের বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়নি। ফলে বিষয়টি একটি ‘বিরল ঘটনা’।
ইনুর সাজা বাড়াতে আপিল করবে রাষ্ট্রপক্ষ
এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আটটি অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সাজা বাড়াতে চলতি সপ্তাহে আপিল করবে রাষ্ট্রপক্ষ।
প্রসিকিউটর তামিম জানান, গত ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ হাসানুল হক ইনুকে তিনটি ধারায় ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে তিনটি সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। ফলে কার্যত তাঁকে ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে।
এই সাজা বাড়ানোর লক্ষ্যে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হবে।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক) | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬