|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৮ আগu ২০২৬ ০৭:৪৭ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৮ আগu ২০২৬ ০১:১১ অপরাহ্ণ

দুই আবাসিক হল ছাত্রদলের নিয়ন্ত্রণে, এখনও ফেরেননি শিবিরের নেতাকর্মীরা


দুই আবাসিক হল ছাত্রদলের নিয়ন্ত্রণে, এখনও ফেরেননি শিবিরের নেতাকর্মীরা


ঢাকা প্রতিনিধি:

 

রাজধানীর সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের পর দুই আবাসিক হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ছাত্রদল। সংঘর্ষের পর থেকে হল দুটির বেশির ভাগ শিবিরকর্মী আর ফিরে আসেননি। অন্যদিকে, ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী হলে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
 

গত মঙ্গলবার আবাসিক হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের পর মাদ্রাসাটির ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আল্লামা কাশগারী (রহ.) হল ও মুফতি আহসান উল্লাহ হলে গিয়ে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়।
 

আল্লামা কাশগারী (রহ.) হলের মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। ফটকের সামনে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। হলের তিনতলা ভবনের কয়েকটি কক্ষের জানালার কাচ ভাঙা রয়েছে। তবে ভেতরে কিছু শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। তাদের অনেকেই ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।
 

পুলিশ জানিয়েছে, হলের বৈধ শিক্ষার্থী ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। অনেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে এবং আসন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হলে আসছেন।
 

চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসান বলেন, কিছু শিক্ষার্থী সংঘর্ষের আগ থেকেই হলে অবস্থান করছিলেন। আবার অনেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিতে আসছেন। তবে শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কাউকে হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
 

শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আল্লামা কাশগারী (রহ.) হলের তিনতলা ভবনে ৭৪টি কক্ষ রয়েছে। এসব কক্ষে বৈধ আসন রয়েছে ৩১২টি। তবে বর্তমানে সেখানে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী থাকেন।
 

গত মঙ্গলবার সকাল থেকেই হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সন্ধ্যার দিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে কয়েকশ নেতাকর্মী হলে প্রবেশ করেন বলে জানা গেছে। এর আগেই শিবিরের নেতাকর্মীরা হল ছেড়ে চলে যান। পরে কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
 

এ সময় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হক মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংঘর্ষে ছাত্রদলের ১৪ জন এবং ছাত্রশিবিরের ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
 

হলে অবস্থানরত এক শিক্ষার্থী আলী হাসান ওবামা বলেন, তিনি কোথাও যাননি এবং হলেই অবস্থান করছেন। তার মতো আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী হলের ভেতরে রয়েছেন। তাদের অনেকেরই অন্যত্র থাকার ব্যবস্থা নেই।
 

এদিকে হলের নিরাপত্তাকর্মী বদিউর রহমান জানান, ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী নিজেরাই হলে প্রবেশ করছেন এবং ভেতরে অবস্থান করছেন।
 

মাদ্রাসা শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলীম দাবি করেন, ঘটনাটি শুধু সিট দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ছিল না; এটি পরিকল্পিত হামলা। তার দাবি, হামলায় শিবিরের ১১ জন আহত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে দুজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
 

কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পরিস্থিতিতে তারা হলের ভেতরে ঢুকতেই পারেননি। ফলে তাদের পক্ষ থেকে কক্ষ ভাঙচুরের প্রশ্নই ওঠে না।
 

অন্যদিকে, মাদ্রাসায় বর্তমানে ছাত্রদলের কোনো আনুষ্ঠানিক কমিটি নেই। তবে আসন্ন কমিটিতে পদ পেতে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৎপরতা রয়েছে। ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রত্যাশী সাদ চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার শিবিরকর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে হামলা চালানোর পর বিষয়টি জানতে পেরে সিনিয়র নেতারা এগিয়ে আসেন। এরপর শিবিরের নেতাকর্মীরা হল ছেড়ে চলে যান।
 

সাদ চৌধুরীর দাবি, বর্তমানে দুই আবাসিক হল ছাত্রদলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষে ছাত্রদলের অন্তত ১৪ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং তাদের কয়েকজন এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
 

সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হলের প্রবেশ ও অবস্থানের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হচ্ছে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬