|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ০২:৩৬ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ০২:১৪ অপরাহ্ণ

সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ বছরে নিশ্চিহ্ন প্রায় ৩০০ পরিবার


সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ বছরে নিশ্চিহ্ন প্রায় ৩০০ পরিবার


প্রতিনিয়ত সড়কে মোটরবাইক, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও বাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই থেকে একাধিক সদস্য নিহত হচ্ছেন। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৬ বছর ১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোটরবাইক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী এবং পিতা-সন্তানের একসঙ্গে নিহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। মোটরবাইকে স্বামী-স্ত্রী নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টি এবং পিতা-সন্তান নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৫৯টি। এসব দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ৩৮৬ জন এবং পিতা-সন্তান হিসেবে ৩১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

অটোরিকশা দুর্ঘটনায়ও একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রাণহানির চিত্র ভয়াবহ। একই পরিবারের দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ২১১টি, তিনজন ১১৮টি, চারজন ৯২টি, পাঁচজন ৫৩টি, ছয়জন ৩৮টি এবং সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৩টি। সব মিলিয়ে ৫২৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১ হাজার ৭২৮ জনের।

মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৪৮টি, তিনজন ৪৬টি, চারজন ৩৯টি, পাঁচজন ২৮টি, ছয়জন ২০টি, ১১ জন চারটি এবং ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে একটি। মোট ১৮৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭০৮ জন।

প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি, তিনজন ৩১টি, চারজন ২৪টি এবং পাঁচজন ১৯টি। মোট ১০৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫২ জন।

অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১১টি, তিনজন ১৫টি, চারজন নয়টি, পাঁচজন সাতটি এবং আটজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে তিনটি। মোট ৪৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৬২ জন।

অন্যদিকে বাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৭টি, তিনজন নয়টি এবং চারজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ছয়টি। মোট ৩২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৮৫ জনের। এ ছাড়া পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে একই পরিবারের চারজন নিহত হওয়ার একটি ঘটনা ঘটেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, পরিবারের একাধিক সদস্যের একসঙ্গে নিহত হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে কর্মস্থলে যাওয়া বা ভ্রমণের প্রবণতা বৃদ্ধি, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল, অধিকাংশ মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেস না থাকা এবং এসব যানবাহনের চালকদের অদক্ষতা।

এ ছাড়া চালকদের বিশ্রামহীনভাবে গাড়ি চালানো, মোটরবাইক আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, বেপরোয়া গতিতে মোটরবাইক চালানো এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতাকেও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬