|
প্রিন্টের সময়কালঃ ১৪ আগu ২০২৬ ০৯:৩৫ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৭ মে ২০২৬ ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ

বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নিয়ে ২০–২১ মে গণশুনানি


বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নিয়ে ২০–২১ মে গণশুনানি


জ্বালানি তেলের পর এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব এখন বিবেচনাধীন। এই প্রস্তাবের ওপর আগামী ২০ মে ও ২১ মে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এরই মধ্যে সব বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি কমিশনের কাছে তাদের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

বিইআরসি সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ বিভাগ নীতিগত অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি কমিশনে পাঠায়। পরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি দামের কাঠামো নির্ধারণ করে। সেই অনুযায়ী বিতরণ সংস্থাগুলো খুচরা পর্যায়ে দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব জমা দেয়।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, প্রস্তাব আমলে নিয়ে আমরা কারিগরি মূল্যায়ন শুরু করেছি। সব বিতরণ কোম্পানির প্রস্তাব ইতোমধ্যে জমা পড়েছে। গণশুনানির মাধ্যমে যৌক্তিকতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পাইকারি পর্যায়ে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে এক টাকা ৫০ পয়সা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। এর সঙ্গে সমন্বয় করে খুচরা পর্যায়েও ব্যবহারভিত্তিক স্তরে ভিন্ন হারে দাম বাড়ানো হতে পারে। এতে প্রতি ইউনিটে প্রায় ৭০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে স্বল্প ব্যবহারকারী বা ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের (৭০-৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী) আপাতত এই বাড়তি চাপের বাইরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে মোট গ্রাহকের প্রায় ৬৩ শতাংশ সুরক্ষিত থাকতে পারেন, আর বাকি ৩৭ শতাংশ গ্রাহকের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে। এর বাইরে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি) প্রতি ইউনিটে অতিরিক্ত ১৬ পয়সা সঞ্চালন চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

বর্তমানে দেশে প্রায় ৫ কোটি বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে, যার বড় অংশই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার। তবে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে বিদ্যুতের খরচ বাড়লে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্য ও সেবার দামে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

বিদ্যুৎ খাতে মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের বিশাল ব্যবধান। পিডিবির হিসাবে, প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় খরচ গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা দামের তুলনায় প্রায় ৫ টাকা ৫০ পয়সা বেশি। এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে বিপুল ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎখাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৫৬ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। এলএনজি, কয়লা ও তেলের বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এর পাশাপাশি, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার না হলেও চুক্তি অনুযায়ী ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা সামগ্রিক আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন পাইকারি পর্যায়ে প্রায় ৫ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে গড়ে ৮ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। বর্তমানে প্রতি ইউনিট খুচরা বিদ্যুতের গড় মূল্য ৮ টাকা ৯৫ পয়সা এবং পাইকারি মূল্য ৭ টাকা ৪ পয়সা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, ঘাটতি দেখিয়ে বারবার দাম বাড়ানো কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। বিদ্যুৎখাতে অদক্ষতা ও অতিরিক্ত ব্যয় কমানো গেলে ভর্তুকির চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬