|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০১ আগu ২০২৬ ০৭:৫৩ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০১ আগu ২০২৬ ০৬:৩৭ অপরাহ্ণ

সীতাকুণ্ডে কুমিরা আবাসিক বালিকা স্কুলের সভাপতি পদ ঘিরে চক্রান্ত, ব্যাহত শিক্ষার পরিবেশ


সীতাকুণ্ডে কুমিরা আবাসিক বালিকা স্কুলের সভাপতি পদ ঘিরে চক্রান্ত, ব্যাহত শিক্ষার পরিবেশ


সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: 

 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘কুমিরা আবাসিক বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর পরিচালনা পর্ষদের (গভর্নিং বডি) সভাপতি পদ হস্তগত করতে একটি চক্রের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত ও অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। চক্রটির মনগড়া অপপ্রচার ও নানা জবরদস্তিমূলক আচরণের কারণে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

 

সরেজমিনে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে মরহুম আলহাজ্ব নজির আহাম্মদ চৌধুরী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ২০০৫ সালে মাত্র ৪৯ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কলেজে উন্নীত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত বহু চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গড়ে তুলেছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০০৭ সালের এসএসসি শিক্ষার্থী নারগিস সুলতানা সুমা বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে কর্মরত আছেন এবং ২০০৯ সালের শিক্ষার্থী ইরতিহা আলম নাবিলা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োজিত। ২০১৯ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ২০২৩ সালে এর অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিন উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বীকৃতি লাভ করেন।

 

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ভৌগোলিক গুরুত্ব ও মনোরম পরিবেশের কারণে দীর্ঘ দিন ধরেই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পদটি নিয়ে কতিপয় ব্যক্তিবর্গের কুনজর রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পদলোভী একটি চক্র বারবার নিজেদের স্বার্থে প্রতিষ্ঠান ও অধ্যক্ষকে জিম্মি করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। শিক্ষাবোর্ড ও প্রশাসনের নিজস্ব বিধিমালা মেনে সভাপতি নির্বাচনের নিয়ম থাকলেও, চক্রটি সরাসরি অধ্যক্ষের ওপর বেআইনি চাপ সৃষ্টি করে আসছে।

 

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিন বলেন,

"বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিতে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বড় কোনো ফান্ড নেই। সরকারি সহায়তা ও এলাকার শিক্ষানুরাগীদের সহযোগিতায় আজ প্রায় ১২শ শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে। কিন্তু কমিটি গঠন নিয়ে বারবার অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা তৈরি করা হচ্ছে। অনেকে মনে করেন আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করলেই সভাপতি হওয়া যায়, যা সম্পূর্ণ ভুল। ২০১৫ সালেও রাজনৈতিক মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানি করা হয়েছিল মূলত এই পরিচালনা পর্ষদকে কেন্দ্র করে। দুঃখজনকভাবে সেই একই চক্রটি এখনও সভাপতি পদের লোভে কাদা ছোড়াছুড়ি করছে, যা আমাদের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।"

 

বর্তমানে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পদ নিয়ে সৃষ্ট এই টানাপোড়েন ও অনাকাঙ্ক্ষিত চাপের কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন মহল অনতিবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সুরক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬