|
প্রিন্টের সময়কালঃ ১২ আগu ২০২৬ ১০:০৮ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ১২ আগu ২০২৬ ০২:১১ অপরাহ্ণ

নিরাপত্তা চেয়ে এসপিকে চিঠি দিল বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগ


নিরাপত্তা চেয়ে এসপিকে চিঠি দিল বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগ


গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:



গোপালগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা ও সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)।

 

মঙ্গলবার গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পুলিশ সুপারের কাছে এ সহযোগিতা চাওয়া হয়।
 

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গোপালগঞ্জ পাওয়ার হাউজ ক্যাম্পাস ও চরপাথালিয়ায় ওজোপাডিকোর দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়া এবং জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, দপ্তর ও স্থাপনায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে বলে চিঠিতে জানানো হয়।
 

সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওজোপাডিকোর দপ্তর এবং ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রগুলোকে নিয়মিত পুলিশ টহলের আওতায় আনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারির অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠির অনুলিপি জেলা প্রশাসক, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক, গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
 

এদিকে তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, পড়াশোনা ও বিভিন্ন জরুরি সেবা। শহরের বিভিন্ন এলাকায় দিনে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করেছেন গ্রাহকেরা।
 

শহরের বড় বাজারের চাল ব্যবসায়ী অনুপ সাহা বলেন, পৌর মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ডে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বিদ্যুৎ চলে গেলে সেখানে প্রচণ্ড গরম হয়ে যায়। এতে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং ক্রেতারাও ভোগান্তিতে পড়েন। বিদ্যুৎ না থাকলে কেনাবেচাও বন্ধ হয়ে যায়। দিনে প্রায় ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না বলে জানান তিনি।
 

মৌলভীপাড়ার বাসিন্দা ও গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী হাসিবুল হাসান শান্ত বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। খাওয়া ও ঘুমের সময়ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। অনেক সময় আধা ঘণ্টাও টানা বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।
 

লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কলেজ রোডের প্রিয়াঙ্কা অফসেট প্রিন্টিং প্রেসের ম্যানেজার আল আমিন শেখ বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কম্পিউটারে ডিজাইনের কাজ করার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে অনেক ক্ষেত্রে কাজ আবার শুরু থেকে করতে হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ে গ্রাহকদের কাজ বুঝিয়ে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
 

বটতলা এলাকার বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, চিকিৎসা, অনলাইন সেবা, পাসপোর্ট, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকসহ নানা সেবা এখন বিদ্যুৎনির্ভর। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এসব সেবা নিতে মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত লোডশেডিং পরিস্থিতির সমাধান চান তিনি।
 

গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মঈন উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা বা নাশকতার বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট হুমকি পাওয়া যায়নি। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সেবাকে কেন্দ্র করে নাশকতা বা আক্রোশমূলক ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য ছড়াচ্ছে। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ সুপারের কাছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।
 

লোডশেডিং পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বুধবার সকালে গোপালগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ৯ মেগাওয়াট। দুপুরে চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ মেগাওয়াট, তখনও সরবরাহ ছিল ৯ মেগাওয়াট। উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহের ওপর পরিস্থিতি নির্ভর করায় লোডশেডিং কতদিন থাকবে তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
 

তিনি আরও জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে দিন-রাত মিলিয়ে গড়ে প্রায় আট ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। গত দুই দিনে এর মাত্রা আরও কিছুটা বেড়েছে। টাউন ফিডারের আওতায় সরকারি কলেজ ও মহিলা কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষা চলায় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা যাচ্ছে না। ফলে অন্যান্য এলাকায় তুলনামূলক বেশি সময় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
 

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহর পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, বিদ্যুতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো কেপিআই হিসেবে নিয়মিতই নিরাপত্তার আওতায় থাকে। বিদ্যুৎ বিভাগ প্রায়ই এসব স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশকে চিঠি দেয়। এবারও একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে এসব স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। এ কারণে পুলিশের মোবাইল টিম ও টহল দলগুলোকে বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোর দিকে নিয়মিত নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬