সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস
জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এ বাজেট আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। নতুন অর্থবছরের বাজেটে করনীতি, ভ্যাট ব্যবস্থা, বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন খাতের বরাদ্দে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। একই সঙ্গে বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রাখা হয়েছে, যা বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থায়নের পরিকল্পনা করেছে সরকার।
মঙ্গলবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে বাজেটটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে সোমবার কয়েকটি সংশোধনী যুক্ত করে অর্থবিল পাস করা হয়। সংশোধিত অর্থবিলে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন খাতে বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের করপোরেট কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবও বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কর ও শুল্কসংক্রান্ত সব প্রস্তাব চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
নির্দিষ্টকরণ আইন, ২০২৬ পাসের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুকূলে বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়। এ সময় ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে বিরোধী দলের সদস্যরা ১ হাজার ৩৪৪টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কয়েকটি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে বাকি ছাঁটাই প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতা প্রত্যাহার করে নিলে দ্রুত মঞ্জুরি দাবিগুলো পাস হয়।
নির্দিষ্টকরণ বিলের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ব্যয় নির্বাহের জন্য রাষ্ট্রপতিকে সংযুক্ত তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৯ কোটি ৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত ব্যয়ের পরিমাণ ৮ লাখ ৩০ হাজার ৪১৪ কোটি ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। বাকি ৬ লাখ ৮৫ হাজার ২৫ কোটি ৭ লাখ টাকা সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায় হিসেবে রাখা হয়েছে।
গত অর্থবছরের তুলনায় নতুন বাজেটের আকার বেড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে এবারের বাজেটের আকার ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় বাজেট বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা।
সরকার রাজস্ব আয় হিসেবে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, নন-এনবিআর খাত থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং করবহির্ভূত (এনটিআর) খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা আয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রাখা হয়েছে। এ ঘাটতি পূরণে ৪৬ শতাংশ অর্থ বৈদেশিক উৎস থেকে এবং বাকি ৫৪ শতাংশ অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার। বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন বাজেটে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্যও বড় অঙ্কের বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা, কৃষি, স্থানীয় সরকার, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, খাদ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং পরিবহনসহ বিভিন্ন খাত সর্বাধিক বরাদ্দ পেয়েছে। বাজেট পাসের মধ্য দিয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য সরকারের রাজস্ব আহরণ, উন্নয়ন ব্যয় ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬