এক টুকরো রুটির জন্য শিশুকে নির্যাতন, নিরাপত্তাকর্মী আটক
রাজধানীর মিরপুরে এক টুকরো রুটি চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে পথশিশুকে নির্মমভাবে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত এক নিরাপত্তা কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তির নাম রিপন মন্ডল। নির্যাতনের শিকার শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) সালেহ্ মুহম্মদ জাকারিয়া।
এডিসি সালেহ্ মুহম্মদ জাকারিয়া বলেন, নির্যাতনকারী ব্যক্তির নাম রিপন মন্ডল। গত পরশু রাতে মিরপুর-১ নম্বরে তিনি একটি শিশুকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, আইনের শাসন মানতে হবে। যে কোনো ধরনের নির্মমতার ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক অ্যাকশনে যাবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এর আগে, রোববার (৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি শিশুকে মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক শিশুকে মারধর করছেন এক ব্যক্তি। শিশুটি নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করলেও তাকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। আশপাশে থাকা লোকজনের মধ্য থেকে একজন এগিয়ে এসে শিশুটিকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। ঘটনাটি ধারণ করে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
পথশিশু নিয়ে কাজ করা সামাজিক স্বেচ্ছাসেবীরা বলছেন, পথশিশুরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খাবার, আশ্রয় ও নিরাপত্তার সংকটে দিন কাটায়। পরিবারের বিচ্ছিন্নতা, দারিদ্র্যসহ নানা কারণে অনেক শিশুই রাস্তায় ঘুমায় এবং খাবারের জন্য মানুষের সহায়তা বা বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করা খাবারের ওপর নির্ভর করে। ক্ষুধার তাড়নায় কোনো শিশু খাবার নেওয়ার মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়লেও তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার সুযোগ নেই।
শিশুদের ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগ থাকলে আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। কিন্তু খাবারের মতো মৌলিক প্রয়োজনের সঙ্গে জড়িত ঘটনায় একটি শিশুকে প্রকাশ্যে মারধরের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে— সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে?
এ ঘটনায় অভিযুক্ত রিপন মন্ডলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পাশাপাশি শিশুটিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইনের শাসন নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের নির্মমতার ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে তারা তৎপর রয়েছে।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক) | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬