|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৩ জুন ২০২৬ ০৫:৩৫ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৩ জুন ২০২৬ ০২:৫৫ অপরাহ্ণ

ঢাবির তিন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, দুই শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি


ঢাবির তিন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, দুই শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি


বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত অভিযোগ ও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং দুই শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ডেপুটি রেজিস্ট্রারকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
 

সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয় বলে সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে।
 

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া তিন শিক্ষক হলেন ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
 

এ ছাড়া উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়াকে জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত অভিযোগের কারণে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সিদ্ধান্তের আওতায় বাংলা বিভাগের শিক্ষক তাশরিক-ই-হাবিবকেও একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলা বিভাগের একাডেমিক কমিটির সুপারিশ অনুসারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তাশরিক-ই-হাবিবের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ ছিল। অন্যদিকে অধ্যাপক আজমল হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়া এবং নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে।
 

সিন্ডিকেট সভায় জুলাই আন্দোলনে বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা লাভলু মোল্লা শিশিরকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
 

এদিকে ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রব্বানীর পদ বাতিলের বিষয়টিও সভায় আলোচনা হয়। এ বিষয়ে জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রাশেদ খানকে বিবেচনায় নেওয়ার প্রশ্নে আইন উপদেষ্টার মতামত চাওয়া হয়েছে।
 

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল গোলাম রব্বানীর এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়নি উল্লেখ করে তা বাতিলের সুপারিশ করে। একই সঙ্গে ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে তার জিএস পদও অবৈধ ঘোষণার সুপারিশ করা হয়েছিল।
 

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একাডেমিক কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কিছু অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পৃথক সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়েছে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬