|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৯ জুন ২০২৬ ০৭:৪২ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৯ জুন ২০২৬ ০৩:৩৮ অপরাহ্ণ

জুলাই শহীদ ছেলের ‘অনুদানের টাকায়’ দ্বিতীয় বিয়ে করলেন বাবা


জুলাই শহীদ ছেলের ‘অনুদানের টাকায়’ দ্বিতীয় বিয়ে করলেন বাবা


ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শহীদ পরিবারের জন্য সরকারের দেওয়া অনুদানের অর্থ ব্যবহার করেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আব্দুল মতিন। তার ভাষ্য, নিজের উপার্জনের অর্থেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিও ছিল।

 

জানা গেছে, উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমড়াশসন গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল মতিন ঢাকার মতিঝিলে আলফা গ্রুপের একটি শাখায় সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। তার স্ত্রী মমতাজ বেগমের সঙ্গে ২০০৪ সালের ৭ নভেম্বর বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র ছেলে শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হন। এছাড়া তাদের ১০ বছর বয়সী একটি মেয়েও রয়েছে। দীর্ঘ ২২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর চলতি বছরের ২৯ মে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আব্দুল মতিন। এরপর থেকেই পরিবারে বিরোধ শুরু হয়।

 

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হন শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দুই দিন চিকিৎসাধীন থেকে ২০ জুলাই তিনি মারা যান।

 

পরিবারের অভিযোগ, শহীদ পরিবারের জন্য সরকারের দেওয়া অনুদানের অর্থ থেকে ৭ লাখ টাকা কাবিন এবং প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার কিনে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন আব্দুল মতিন। দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানার পর গত ২ জুন প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তবে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাদের নিবৃত্ত করেন।

 

এছাড়া স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, শহীদ শাহরিয়ারের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টাও করেছেন আব্দুল মতিন। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

 

মমতাজ বেগম বলেন, সন্তান হারানোর শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি। এর মধ্যেই তার অনুমতি ছাড়াই স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তিনি দাবি করেন, দ্বিতীয় বিয়ের জন্য যে ব্যয় হয়েছে, তা আব্দুল মতিনের ব্যক্তিগত সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার অভিযোগ, শহীদ ছেলের জন্য পাওয়া সরকারি অনুদানের অর্থই সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শহীদ পরিবারের জন্য বরাদ্দ ৩০ লাখ টাকা উত্তোলনের উদ্দেশ্যে তার স্বাক্ষর জাল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পাশাপাশি শহীদ ছেলের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ারও চেষ্টা করেছেন আব্দুল মতিন।

 

তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে আব্দুল মতিন বলেন, বংশ রক্ষার স্বার্থে এবং তার মায়ের অনুরোধে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। বিয়ের আগে প্রথম স্ত্রী সম্মতি দিয়েছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, নিজের চাকরির আয়ের টাকায় বিয়ে করেছেন, শহীদ ছেলের অনুদানের অর্থ ব্যবহারের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

 

তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় বিয়ের পর পাঁচবার প্রথম স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাননি। বর্তমানে বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

 

এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জুলাই আন্দোলনের নেতারাও। জুলাই সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল নাকিব বলেন, আইন ও ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী একাধিক বিয়ে বৈধ হলেও এমন সিদ্ধান্ত এমনভাবে নেওয়া উচিত, যাতে পরিবারের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে এবং শহীদ পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন না হয়।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ময়মনসিংহের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, একজন জুলাই শহীদের বাবার এমন সিদ্ধান্ত তাদের ব্যথিত করেছে। তার মতে, এটি শহীদ পরিবারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

একই আন্দোলনের সমন্বয়কারী (শহীদ ও আহত সেল) আল নূর আয়াসও ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পরিবারের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাকে নিয়েই সংসার পরিচালনা করা সম্ভব ছিল। এমন সিদ্ধান্ত শহীদ পরিবারের মর্যাদা ও মানুষের অনুভূতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬