|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৩ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:০৫ অপরাহ্ণ

মাদারগঞ্জে যমুনার চরে পেঁয়াজ ও বাদামের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা


মাদারগঞ্জে যমুনার চরে পেঁয়াজ ও বাদামের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা


মো. আলমগীর হোসাইন হৃদয়, জামালপুর প্রতিনিধি:

 

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার একাংশে যমুনা নদী-তে জেগে ওঠা চরে পেঁয়াজ ও বাদাম চাষে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। বিস্তীর্ণ চরজুড়ে এখন সবুজে ঢেকে গেছে পেঁয়াজ ও বাদামের ক্ষেত।

 

কৃষকরা জানান, আগে চরাঞ্চলে পেঁয়াজের আবাদ তুলনামূলক কম ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাষ কয়েকগুণ বেড়েছে। যদিও চলতি মৌসুমে উৎপাদন খরচ আগের চেয়ে বেশি হয়েছে।

 

জানা গেছে, পাকরুল-হিদাগাড়ী এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক এবার পেঁয়াজ ও বাদাম চাষ করেছেন। যমুনার পানি আগে নেমে যাওয়ায় মৌসুমের শুরুতেই জমি প্রস্তুত করে চারা রোপণ করা সম্ভব হয়েছে। বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও উচ্চমূল্যের কারণে অন্যান্য ফসলের চেয়ে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।

 

কৃষকদের মতে, ভারতীয় পেঁয়াজের তুলনায় দেশি পেঁয়াজের মান ভালো হওয়ায় বাজারে দামও বেশি পাওয়া যায়। ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হলে চরাঞ্চলে পেঁয়াজ ও বাদাম চাষ আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।

 

সাধারণত নভেম্বর থেকে যমুনার পানি কমতে শুরু করে। তখন কৃষকরা চাষের উপযোগী করে জমি প্রস্তুত করেন। পৌষ মাসে চারা রোপণ এবং চৈত্র মাসে পেঁয়াজ তোলা শুরু হয়। চরে পেঁয়াজ চাষে বিঘাপ্রতি খরচ হয় ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। খরচ বাদে প্রতিবিঘায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা লাভের হিসাব করছেন কৃষকরা। দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যেই তারা পেঁয়াজ ঘরে তুলতে পারবেন।

 

স্থানীয় কৃষক আলতাফুর রহমান ও আকবর আলী বলেন, পেঁয়াজ, বাদাম, মটরশুঁটি ও মুসুর ডালসহ বিভিন্ন ফসল চাষ হয় এই চরে। ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। কৃষক মনির ফকির জানান, কয়েক বিঘা জমিতে চাষ করেছেন তিনি। কৃষি অফিস থেকে পেঁয়াজ ও মটরশুঁটির কিছু বীজ পেয়েছেন। ন্যায্যমূল্য পেলে লাভবান হওয়ার আশা করছেন।

 

মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, একসময় চরাঞ্চলের জমি অনাবাদি থাকলেও এখন সেখানে বিভিন্ন ফসল চাষ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জ উপজেলায় ১৩০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ এবং ১০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ফসলের অবস্থা ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে কৃষকরা লাভবান হবেন এবং ভবিষ্যতে এ চাষে আরও আগ্রহী হবেন বলে তিনি জানান।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬