|
প্রিন্টের সময়কালঃ ৩১ আগu ২০২৫ ০৫:২৪ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ৩০ আগu ২০২৫ ০৪:৩২ অপরাহ্ণ

প্রধান শিক্ষক ছাড়াই উলিপুরের ১১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে 


প্রধান শিক্ষক ছাড়াই উলিপুরের ১১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে 


আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-


 

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের ৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ১১২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক এবং ১২৭টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য। এছাড়া ছয়জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদও দীর্ঘদিন শূন্য থাকার কারণে চরের স্কুলগুলোতে পাঠদান কার্যক্রম স্থবির।
 

উলিপুর উপজেলার নদীবেষ্টিত বেগমগঞ্জ, সাহেবের আলগা, হাতিয়া, বুড়াবুড়ি, বজরা, গুনাইগাছ ও থেতরাই ইউনিয়নের ৪০টি চরের ৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট সবচেয়ে প্রকট। এই কারণে শিক্ষার্থীরা বছরের অধিকাংশ সময় ক্লাস করতে পারছে না। বিদ্যালয় সূত্র জানায়, নতুন শিক্ষক নিয়োগ হলেও চরের স্কুলগুলোতে কাউকে দেওয়া হয়নি। বরং চরের কয়েকজন শিক্ষককে ডেপুটেশনে অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।
 

উলিপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে ২৬৭, কর্মরত আছেন ১৫৫ জন; সহকারী শিক্ষকের পদ রয়েছে ১৪৫৭, কর্মরত আছেন ১৩৩০; সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার ৯টি পদের মধ্যে ৬টি শূন্য।
 

সীমান্তবর্তী সাহেবের আলগার মশালের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে এক শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি তার বিসিএস ক্যাডারে চাকুরীর কারণে স্কুলটি আবারও শিক্ষক শূন্য হয়ে গেছে। অন্য চরের বিদ্যালয়গুলোও একজন বা সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক দিয়ে চলে। শিক্ষকের উপস্থিতি কম থাকায় স্কুলগুলো প্রায় বন্ধ থাকলেও পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের পাশ করাতে হচ্ছে। ফলে প্রাথমিক পাশ করা শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিকে ভর্তি হতে পারছে না।
 

সুখের বাতীর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ রাশেদুল ইসলাম বলেন, তার স্কুল ভবন দুই বছর আগে নদীতে ভেঙে গেছে, বর্তমানে পার্শ্ববর্তী বাড়িতে ভাড়া নিয়ে পাঠদান চালানো হচ্ছে। তিনি সপ্তাহে দু’দিন ক্লাসে যেতে পারেন, বাকী দিন নিজস্ব প্যারা শিক্ষক দিয়ে শিক্ষাদান চলছে।
 

মশালের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষক মোঃ মমিনুল ইসলাম জানান, তিনি একাই ১১৯ জন শিক্ষার্থীর স্কুলটি চালাচ্ছেন, কিন্তু ৪৪তম বিসিএসের কারণে সম্প্রতি তিনি পদত্যাগ করেছেন।
 

উলিপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছাঃ নার্গিস ফাতিমা তোকদার বলেন, শিক্ষক সংকট ও সঠিক উপস্থিতি না থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার শূন্যতার কারণে নজরদারিতেও ঘাটতি রয়েছে।
 

উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা জানান, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫