|
প্রিন্টের সময়কালঃ ১০ মার্চ ২০২৬ ০২:১৩ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৯ মার্চ ২০২৬ ০২:২৯ অপরাহ্ণ

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর ‘কমান্ডো অ্যাকশন’, সন্ত্রাস নির্মূলে ৪ হাজার সদস্যের সাঁড়াশি অভিযান


জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর ‘কমান্ডো অ্যাকশন’, সন্ত্রাস নির্মূলে ৪ হাজার সদস্যের সাঁড়াশি অভিযান


কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম):



চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরকে সন্ত্রাস ও অবৈধ দখলমুক্ত করতে বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনসহ প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নিয়েছেন।


 


 

সোমবার (৯ মার্চ) ভোরে ফজরের নামাজের পরপরই অভিযান শুরু হয়। অভিযান শুরুর পর থেকে পুরো জঙ্গল সলিমপুর এলাকা কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রেখেছে যৌথবাহিনী।
 

অভিযানের অংশ হিসেবে জঙ্গল সলিমপুরের সব প্রবেশ ও বাহিরের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে তল্লাশিচৌকি, যাতে চিহ্নিত অপরাধীরা এলাকা ছেড়ে পালাতে না পারে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভাগ হয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা।

 


 

অভিযানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও করা হচ্ছে। আকাশপথে নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন ও হেলিকপ্টার। এছাড়া মাটির নিচে বা ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও বিস্ফোরক শনাক্ত করতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডগ স্কোয়াড। অভিযানে ট্যাংক, জলকামানসহ বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে।
 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে প্রায় ৫৫০ জন সেনাসদস্য, ১ হাজার ৮০০ পুলিশ সদস্য, ৩৩০ এপিবিএন, ৪০০ র‍্যাব এবং ১২০ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় এটিই সবচেয়ে বড় সমন্বিত অভিযান বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

 


 

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব-৭ এর এক নায়েব সুবেদার নিহত হওয়ার ঘটনায় সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
 

প্রায় তিন হাজার একর পাহাড়ি এই জনপদ দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাসের এই এলাকায় কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধ প্লট বাণিজ্য এবং পাহাড় দখলের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ২০১৭ ও ২০২২ সালেও প্রশাসন অভিযান চালানোর চেষ্টা করলেও পুরোপুরি সফল হয়নি।
 

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় এবার জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সাধারণ বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত রেখে শুধুমাত্র তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

সংশ্লিষ্টরা জানান, অভিযান মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত চলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস ও অবৈধ দখলের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরকে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
 

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। সেই সময় এখানে নতুন কারাগার, হাসপাতাল, স্টেডিয়াম, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বাস্তুহারা মানুষের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল বলে প্রশাসন সূত্রে জানা যায়।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬