|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৪ মার্চ ২০২৬ ০৯:৩৭ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৪ মার্চ ২০২৬ ০৬:৫৩ অপরাহ্ণ

২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি ১৫ শতাংশে উন্নীতের লক্ষ্য নির্ধারণ সরকারের : তিতুমীর


২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি ১৫ শতাংশে উন্নীতের লক্ষ্য নির্ধারণ সরকারের : তিতুমীর


ঢাকা, ৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠনে একটি সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরেছেন। 

 

এতে ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং দেশকে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি মডেলের দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ‘পূর্ববর্তী ভোগনির্ভর প্রবৃদ্ধি মডেলটি টেকসই ছিল না এবং বিশেষ করে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সঞ্চিত বিপুল ঋণের বোঝা দেশের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।’

 

আজ রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ সিপিডি ও দ্য ডেইলি স্টার আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন পর্যালোচনা : নবনির্বাচিত সরকারের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অগ্রাধিকার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

 

দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত বিনিয়োগনির্ভর অর্থনৈতিক মডেলে রূপান্তরের জন্য কাজ করছে বলে জানান তিতুমীর। তিনি বলেন, এ মডেল দেশীয় বিনিয়োগ এবং প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই)-উভয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী হবে।

 

তিনি উল্লেখ করেন, এই রূপান্তরের একটি প্রধান স্তম্ভ হচ্ছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

 

উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বে সর্বনিম্ন স্তরের মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ২০৩৫ সালের মধ্যে গড়ে ১৫ শতাংশ কর-জিডিপি অনুপাত অর্জনের সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, কেবল গাণিতিক হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ধাপে ধাপে অগ্রগতির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে- প্রথমে ২ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির মধ্যবর্তী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের পথে এগোনো হবে।

 

তিতুমীর বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানভিত্তিক কর সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

 

তিনি বর্তমান রাজস্ব কাঠামোর বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে জরুরি সংস্কারের আহ্বান জানান।

 

স্ট্যাটুটরি রেগুলেটরি অর্ডার (এসআরও)-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি এমন এক বাজারে পরিণত হয়েছে যেখানে প্রভাব কেনাবেচা হয়। ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ প্রথা কমিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, সরকার পরিচয় ও প্রভাবভিত্তিক ‘গ্রিনফিল্ড’ প্রণোদনার পরিবর্তে কার্যসম্পাদনভিত্তিক (এক্স-পোস্ট) ভর্তুকি ব্যবস্থায় যেতে চায়। তৈরি পোশাক খাতে সফল এ মডেলে সম্ভাবনার ভিত্তিতে নয়, বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে প্রণোদনা দেওয়া হবে।

 

রাজস্ব আদায়ে শুধু বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)- এর ওপর নির্ভরশীলতার প্রবণতাকে বড় ধরনের সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব ইউনিটে সমানভাবে রাজস্ব আহরণ জোরদার করতে হবে।

 

বর্তমান দারিদ্র্য পরিস্থিতিতে প্রচলিত কৃচ্ছ্রসাধন নীতি কার্যকর সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বরং অপচয় রোধ এবং রাজস্ব নীতিকে পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

তিনি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)- এর বাস্তবায়ন হারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা জরুরি।

 

বিশেষভাবে জ্বালানি খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি বোঝার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বিপুল ব্যয় কমাতে সরকার তিনটি কৌশলগত পদ্ধতি গ্রহণ করছে।

 

শেষে তিনি দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান যে জনসাধারণের পণ্য ও সেবার অর্থায়ন যেন যথাযথ কর প্রদানের মাধ্যমে হয়, সে সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি করে সামগ্রিকভাবে সমাজের কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬