ঢাকা প্রেস নিউজ
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের রায় আগামীকাল রোববার ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রোববারের কার্যতালিকায় মামলাটি রায়ের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জসিম সরকার, খন্দকার বাহার রুমি, নূর মুহাম্মদ আজমী ও রাসেল আহম্মেদ। এছাড়া, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ছিলেন আবদুল জব্বার জুয়েল, লাবনী আক্তার, তানভীর প্রধান ও সুমাইয়া বিনতে আজিজ। আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান, আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু, মাসুদ হাসান চৌধুরী ও শিশির মনির।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকা আবরার ফাহাদকে হলের কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। রাত ৩টার দিকে হলের সিঁড়ির করিডোর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফেসবুকে ভারতবিরোধী একটি স্ট্যাটাস দেওয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। পরদিন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার বিচারিক আদালত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন, যেখানে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আসামিদের মধ্যে তিনজন শুরু থেকেই পলাতক ছিলেন। তারা হলেন- এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মাহমুদুল জিসান ও মুজতবা রাফিদ। রায়ের পর আসামিরা তাদের সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন এবং রাষ্ট্রপক্ষ মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স আবেদন করে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত অক্টোবরে এই মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। এর ধারাবাহিকতায় গত ১০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয় এবং আগামীকাল এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হবে।