জামায়াতের কৌশল পরিবর্তন: প্রকাশ্যে নারী নেতাকর্মী

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৮ মার্চ ২০২৫ ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ   |   ১৫০ বার পঠিত
জামায়াতের কৌশল পরিবর্তন: প্রকাশ্যে নারী নেতাকর্মী

ঢাকা প্রেস নিউজ

 

প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামী তাদের নারী নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। অতীতে দলটির নারী সদস্যদের ভূমিকা সাংগঠনিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, সম্প্রতি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাদের দৃশ্যমান উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি জামায়াতের নির্বাচনী কৌশলের অংশ হতে পারে, যেখানে নারী ভোটারদের সমর্থন আকর্ষণের প্রয়াস রয়েছে।
 

যদিও দলটির নেতারা দাবি করেছেন, তাদের নীতি ও আদর্শে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে দমন-পীড়নের কারণে নারী নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে আসতে পারতেন না। এখন নিরাপদ পরিবেশে ইসলামের বিধিবিধান ও পর্দা মেনে তারা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
 

পরিবর্তনের পেছনের কারণ জামায়াতের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর প্রধান প্রশ্ন ছিল জামায়াতের নারী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। নারী নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে আনার মাধ্যমে দলটি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাচ্ছে। তবে অভ্যন্তরীণভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতারা এই পরিবর্তনের পক্ষে ছিলেন।
 

প্রকাশ্যে নারীদের ভূমিকা সম্প্রতি জামায়াতের মহিলা বিভাগ ধর্ষণ, নারী ও শিশু নিপীড়নের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে, যেখানে নারী নেতাকর্মীরা স্লোগান ও বক্তব্য দিয়েছেন। একইভাবে জামায়াতপন্থি নারী অধিকার সংগঠনগুলোর কর্মসূচিতেও তাদের সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। এমনকি ময়মনসিংহে উন্মুক্ত স্থানে ‘তাকওয়াভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে নারীর ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে।
 

কূটনৈতিক মহলে উপস্থিতি ১১ মার্চ ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে জামায়াতের চার নারী নেতার সাক্ষাৎ দলটির কূটনৈতিক কার্যক্রমে নারীদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়। এ ধরনের বৈঠকের ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করাও নতুন দৃষ্টান্ত।
 

মহিলা জামায়াতের কার্যক্রম ও নেতৃত্ব জামায়াতের মহিলা বিভাগ তাদের নিজস্ব সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে। দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ৩৮২ সদস্যের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ নারী, যদিও সর্বোচ্চ ফোরাম নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী সদস্য নেই।
 

রাজনৈতিক কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ১৯৯১ ও ২০০১ সালে জামায়াতের নারী সদস্যরা সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হলেও, দলটি কখনো সরাসরি সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী দেয়নি। তবে স্থানীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থী নিয়মিত ছিল। আগামী সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, কওমি ধারার ইসলামিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টি এতে প্রভাব ফেলতে পারে।
 

সমাপ্তি জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে নারীদের প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত দলটির রক্ষণশীল অংশের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দলের অবস্থানে পরিবর্তন আনছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।