|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৪ এপ্রিল ২০২৫ ০৬:২৫ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৪:০৭ অপরাহ্ণ

ফ্যাটি লিভার থেকে বাঁচতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি


ফ্যাটি লিভার থেকে বাঁচতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি


ঢাকা প্রেস নিউজ

 

লিভারে কিছু পরিমাণ চর্বি থাকা স্বাভাবিক, তবে অতিরিক্ত চর্বি জমলে তা বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করতে পারে, যা লিভার ক্যানসার ও সিরোসিসের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
 

প্রায় এক বছর আগে হাঁটু ও পিঠে ব্যথার জন্য ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন ইয়ানিক ফ্যাশার। তখন তার লিভার পরীক্ষা করা হলে ডা. ফ্রিডহেল্ম জাইক জানান, তিনি ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত।
 

ফ্যাশার জানতেন, তার ওজন বেশি। ১.৮০ মিটার উচ্চতার ফ্যাশারের ওজন ছিল ১৩০ কেজি। তবে লিভারের সমস্যা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।
 

ডা. ফ্রিডহেল্ম জাইক বলেন, "আগামী বছরগুলোতে ফ্যাটি লিভার, নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়বে। এটি আমাদের এবং লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারের জন্য উদ্বেগের বিষয়।" ফ্যাশার যেহেতু ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত, তাই তিনি সিরোসিস ও ক্যানসারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। একসময় লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টই একমাত্র সমাধান হতে পারে। কিন্তু এই অবস্থায় কোনো ওষুধের ব্যবস্থা ছিল না।
 

ডা. জাইক জানান, ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসার জন্য কোনো পিল বা ওষুধ নেই। অনেক গবেষণা চলছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর চিকিৎসা প্রমাণিত হয়নি। তাই জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।
 

ফ্যাশারের কাছে জীবনযাপন পরিবর্তন মানে ছিল ওজন কমানো। তিনি এখন নিয়মিত অনেক সবজি খান, যেটা আগে কখনোই করতেন না। তিনি বলেন, "যখন ডা. জাইক আমাকে ওজন কমানোর গুরুত্ব বুঝিয়ে দিলেন, তখন আমি আসলেই অবাক হয়েছিলাম। আমার বয়স তখন ৩০-এর কাছাকাছি, জীবনের অর্ধেক তো বাকি ছিল। তাই ভাবলাম, এখনই শুরু না করলে কখনোই পারবেন না।"
 

তিনি শুধু খাবারের মেন্যু পরিবর্তন করেননি, খাওয়ার সময়ও বদলে দিয়েছেন। তিনি ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শুরু করেন—অর্থাৎ দিনের প্রথম খাবারটি ছিল দুপুরে। এভাবে তিনি ২৫ কেজি ওজন কমিয়েছেন।
 

ডা. জাইক বলেন, "ওজন কমানো এবং জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা একটা ম্যারাথনের মতো, যা দীর্ঘ সময় ধরে স্ট্যামিনার প্রয়োজন। এটি এমন কিছু হওয়া উচিত নয়, যার পর দ্রুত আবার আগের মতো হয়ে যায়।"
 

ফ্যাশার আশা করেছিলেন যে তার লিভারের সমস্যা দূর হবে, তবে প্রথমদিকে কোনো পার্থক্য অনুভব করতে পারেননি। এক বছর পর ফলোআপ পরীক্ষায় তিনি জানতে পারেন, তার লিভারে চর্বি অনেকটাই কমেছে। এখন তার লিভার ক্যানসার ও সিরোসিস হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমে গেছে। তিনি আরও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ যে, যাতে ওজন আবার বেড়ে না যায়, সেই জন্য নতুন জীবনযাপন চালিয়ে যাবেন।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫