ঢাকা প্রেস নিউজ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যুক্তরাজ্যের সাবেক সিটি মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে তাঁর বোন আজমিনা সিদ্দিকের কাছে বাংলাদেশে সম্পত্তি হস্তান্তরের সময় জাল নোটারি নথি ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে। সংস্থাটির তদন্তে জানা গেছে, টিউলিপ ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট তাঁর বোনের নামে হস্তান্তর করতে জাল নোটারি পাবলিক ব্যবহার করেছেন, যার আইনজীবীর সইও ছিল ভুয়া।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের শুক্রবারের প্রতিবেদনে এ অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। দুদকের দাবি, টিউলিপ সিদ্দিক তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ঢাকার পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্প থেকে একটি সরকারি প্লট নিশ্চিত করেছেন, যা তিনি নিজ ও তাঁর পরিবারের জন্য অবৈধভাবে পেয়েছেন। সংস্থাটির আরও অভিযোগ, টিউলিপ ঢাকার গুলশানে অবস্থিত একটি ফ্ল্যাট তাঁর বোন আজমিনা সিদ্দিকের নামে হস্তান্তর করতে একটি ভুয়া নোটারি নথি ব্যবহার করেছেন।
দুদক জানিয়েছে, তাঁরা এখন আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবেন এবং মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করবে। এর আগে, গত জানুয়ারিতে টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন, যখন তাঁকে বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কিত সুবিধাভোগী হিসেবে অভিযোগ করা হয়।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনকালকে কর্তৃত্বপরায়ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা গত আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেষ হয়। এর পর, হাসিনা পরিবার ও তাঁর আশপাশের আত্মীয়দের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ভূমি দখল এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সামনে আসে।
দুদক জানায়, তারা শেখ হাসিনার পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে এবং তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। এর মধ্যে সরকারি জমি বরাদ্দের জন্য নিয়ম ভেঙে পরিবারের সদস্যদের জন্য জমি নিশ্চিত করা হয়েছে।
দুদক কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন বলেন, “এটা শুধু ‘টিপ অব দ্য আইসবার্গ’। আরও অনেক অভিযোগ এখন তদন্তাধীন, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিবারের বিশাল দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরবে।”
তদন্তকারীদের দাবি, টিউলিপ সিদ্দিক পূর্বাচল প্রকল্পের প্লট পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না, কারণ ঢাকায় ইতোমধ্যেই একটি সম্পত্তির মালিক ছিলেন। তবে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিয়ম পরিবর্তন করে এবং বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে জমি বরাদ্দ পেয়েছেন।
দুদক বলছে, ঢাকার গুলশান এলাকায় একটি ফ্ল্যাট আজমিনা সিদ্দিকের নামে হস্তান্তর করা হয়েছে, এবং এতে ব্যবহৃত নোটারি নথিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী সিরাজুল ইসলামের সিল ছিল। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সিলটি সত্য হলেও স্বাক্ষরটি তাঁর নয়, এবং তিনি টিউলিপ কিংবা আজমিনা সিদ্দিকের সাথে পরিচিত ছিলেন না।
এটি ২০১৫ সালের একটি নথি, যখন টিউলিপ সিদ্দিক লেবার পার্টির সংসদ সদস্য ছিলেন, কিন্তু তখন তিনি মন্ত্রী ছিলেন না। দুদকের দাবি, প্রকৃত সম্পত্তির মালিকানা গোপন করতেই এই জালিয়াতির উদ্দেশ্য ছিল।