|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৬ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৪:৫০ অপরাহ্ণ

পুঠিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনার পর ওসি-এসআইকে কান ধরিয়ে রাখার ভিডিও ভাইরাল


পুঠিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনার পর ওসি-এসআইকে কান ধরিয়ে রাখার ভিডিও ভাইরাল


রাজশাহী ব্যুরো:

 

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পোল্লাপুকুর এলাকায় বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরজুন ও উপপরিদর্শক (এসআই) সুবাশ চন্দ্র বর্মনকে দীর্ঘ সময় কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখে স্থানীয় জনতা। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। পরে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে।
 

নিহতরা হলেন—পুঠিয়ার বালাদিয়ার গ্রামের ওমর আলীর ছেলে ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলাম (২২), রাজশাহী নগরীর কর্ণহার থানার ঠাকুরপাড়ার বেলাল হোসেনের মেয়ে সুমাইয়া আকতার বৃষ্টি (৩০) এবং অজ্ঞাতনামা আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি।
 

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজশাহীগামী রাজকীয় পরিবহনের একটি বাস বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই শান্ত ইসলাম নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও দু’জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাদের মৃত্যু হয়।
 

দুর্ঘটনার পর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে সড়কের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
 

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে বেলপুকুর থানার ওসি মো. আরজুন ও এসআই সুবাশ চন্দ্র বর্মনকে স্থানীয় জনতা একটি টিনের ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখে। পরে পুলিশের আরও একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও অবরুদ্ধ করা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধারে উদ্যোগ নেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সড়ক থেকে জনতাকে সরিয়ে দেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
 

নগর পুলিশের মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বেলপুকুর থানার ওসি ও এসআই ঘটনাস্থলে যান এবং লাশের সুরতহাল করতে গেলে স্থানীয়রা তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পুলিশ রাজকীয় পরিবহনের বাসচালককে আটক করে ছেড়ে দিয়েছে। তবে এ অভিযোগ সঠিক নয়। দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত পালিয়ে গিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের একটি ফিলিং স্টেশনে রেখে চালক পালিয়ে যায়। তখন পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগতই ছিল না। একটি গোষ্ঠী ভুল তথ্য দিয়ে জনতাকে উসকানি দিয়ে পুলিশের সদস্যদের মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
 

মতিহার জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সোহেল রানা বলেন, “আমাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়নি, তবে আটকে রেখে খারাপ আচরণ করা হয়েছে।”
 

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং যারা মব সৃষ্টি করে পুলিশের সদস্যদের অবরুদ্ধ ও লাঞ্ছিত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬