|
প্রিন্টের সময়কালঃ ১০ মার্চ ২০২৬ ০১:০১ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৯ মার্চ ২০২৬ ০৩:৪৮ অপরাহ্ণ

ড্রোনে নজরদারিতে জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযান, সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম থেকে আটক ১০


ড্রোনে নজরদারিতে জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযান, সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম থেকে আটক ১০


বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম 

 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযানের সময় গোপন সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম থেকে ১০ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
 

সোমবার সকালে অভিযান শুরুর আগে থেকেই অপরাধীরা যৌথ বাহিনীর পরিকল্পনার তথ্য পেয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, গোপন সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্থানীয় বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে অভিযানের তথ্য আগেই জেনে যায় অপরাধীরা। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে তারা এলাকায় সড়ক যোগাযোগের একটি কালভার্ট ভেঙে ফেলে এবং বিভিন্ন স্থানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
 

তবে এসব বাধা অতিক্রম করে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা দুর্গম এলাকাটিতে প্রবেশ করেন। অভিযানের সময় ড্রোনের মাধ্যমে পুরো এলাকার ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
 

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান বেলা ১১টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, ছিন্নমূল ও আলীনগর জঙ্গল সলিমপুর এলাকারই অংশ। ছিন্নমূল অতিক্রম করে আলীনগরে প্রবেশের আগে একটি ট্রাক দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল। পরে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা সেটি সরিয়ে সামনে এগিয়ে যান।
 

তিনি আরও জানান, কিছু দূর যাওয়ার পর দেখা যায় রাতের আঁধারে একটি কালভার্ট ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরে ইট ও বালি দিয়ে ওই অংশ ভরাট করে যৌথ বাহিনীর গাড়ি আলীনগরে প্রবেশ করে।
 

অভিযানের তথ্য আগেই কীভাবে ফাঁস হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে নাজমুল হাসান বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকার নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তিদের বিভিন্ন ধরনের স্থানীয় সোর্স রয়েছে। সিএনজি অটোরিকশা চালক থেকে শুরু করে নানা মাধ্যমে তারা তথ্য পেয়ে থাকতে পারে।
 

অস্ত্র উদ্ধার বা আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযান এখনও চলমান থাকায় এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে নির্বিঘ্নে অভিযান পরিচালনার জন্য যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে সেখানে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
 

পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম থেকে আটক ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া অভিযানে ডগ স্কোয়াড ও ড্রোনসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আটক ও উদ্ধার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।
 

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা করে র‍্যাব। মামলায় মোহাম্মদ ইয়াসিনসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও প্রায় ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
 

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামি ধরতে গেলে সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াসিনের নির্দেশে র‍্যাব সদস্যদের ওপর রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় র‍্যাবের হেফাজতে থাকা এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চার র‍্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।
 

ঘটনার পর জঙ্গল সলিমপুরে সমন্বিত অভিযান চালানোর কথা বলা হলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় তা স্থগিত রাখা হয়। তবে ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ১৫ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬