|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৪ এপ্রিল ২০২৫ ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ১৭ মার্চ ২০২৫ ০১:০০ অপরাহ্ণ

ত্রাণের চালের স্লিপ নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৯


ত্রাণের চালের স্লিপ নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৯


আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-

 

কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির চালের স্লিপের ভাগ চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ইউনিয়ন বিএনপির দুই অংশের দুই সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন।
 

রবিবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যায় ইউনিয়নের বড়ভিটা বাজারে পুলিশের উপস্থিতিতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
 

তবে পুলিশের দাবি, উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও সংঘর্ষের বিষয়টি তাদের জানা নেই। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দুই পক্ষকে সরিয়ে দিয়েছে।
 

আহতরা হলেন, ইউনিয়ন বিএনপির একাংশের সভাপতি আব্দুল হাই বাদল সরদারের ছেলে নাঈম সরদার, একাংশের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, আরেক অংশের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, মুসা, শাহারুল ইসলাম, মোকসেদুল ইসলাম, বাবু, জিয়াউর রহমান ও আতিকুল ইসলাম। এদের মধ্যে আতিকুল ইসলাম ও নাঈম সরদারকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
 

বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রবিবার দুপুরে ইউনিয়ন বিএনপির একাংশের সভাপতি বাদল সরদার কিছু নেতাকর্মী নিয়ে পরিষদে যান। তিনি ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণের স্লিপ দাবি করেন। পরিষদে থাকা ইউপি সচিব ও মেম্বারদের চাপ দিতে থাকেন। সচিব এতে অপারগতা প্রকাশ করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা সচিব ও মেম্বারদের পরিষদ থেকে বের করে দিয়ে রুমে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে চলে যান। 
 

খবর পেয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজির হোসেনের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফ সহ ইউনিয়ন বিএনপির আরেকটি গ্রুপ পরিষদ চত্বরে যান। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
 

ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকা ইউয়িনের ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) শাহ আলম বলেন, ‘দুপুরে ইউনিয়ন বিএনপির একাংশের সভাপতি বাদল সরদার ও তার ছেলে নাঈম ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী নিয়ে পরিষদে আসেন। তারা ভিজিএফের চালের স্লিপ দাবি করেন। এ নিয়ে ইউপি সচিব ও আমি অপারগতা প্রকাশ করি। পরে তারা দুর্ব্যবহার করে আমাদের বের করে দিয়ে রুমে তালা দিয়ে চলে যান। আমি তখন আমার পরিচিত ইউনিয়ন বিএনপি নেতাদের জানাই। তারা পরিষদে এসে ঘটনা শুনে চলে যান। পরে সন্ধ্যার পর বড়ভিটা বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। 
 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পুলিশের সামনেই সংঘর্ষে জড়ায় নেতাকর্মীরা। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।’ আরেক মেম্বার আজিম উদ্দিনের সাথে কথা বলে একই বর্ণনা পাওয়া গেছে।
 

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বাদল সরদার বলেন, ‘আমার কাছে অভিযোগে এসেছে— ভিজিএফের চালের বেশ কিছু স্লিপ মেম্বাররা বিক্রি করেছে। ৪-৫ মাস ধরে পরিষদে চেয়ারম্যান নাই। আমি শুধু বলেছি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে চাল বিতরণ করতে হবে। বিতরণে যেন অনিয়ম না হয়। এলাকার প্রকৃত অভাবগ্রস্থ লোক যেন বঞ্চিত না হয়। আমি কাউকে রুম থেকে বের করে দেই নাই। এটা মিথ্যা কথা।’
 

সংঘর্ষের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বাদল সরদার বলেন, ‘এই ঘটনাকে আরিফ (নজির হোসেনের ছেলে) অন্যদিকে ঘুরিয়েছে। সন্ধ্যায় আমি পার্টি অফিসে বসে ইফতার করছি। এ সময় আরিফ তার ছেলেদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমার লোকজনের ওপর হামলা করছে।’
 

‘পার্টির লোকজনের সঙ্গে ঝামেলা হইছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কিছু নাই। এটা বসে ফয়সালা করা হবে। ফয়সালার ওপর কিছু নাই’, পরবর্তী করণীয় প্রশ্নে বলেন এই বিএনপি নেতা।
 

উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতির ছেলে আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘চালের স্লিপ দাবি করে বাদল সরদার পরিষদে গিয়ে সচিবসহ মেম্বারদের গালিগালাজ করে বের করে দেন। এ নিয়ে আরেক পক্ষ প্রতিবাদ করেছে। পরে সন্ধ্যার আগে আমি ফুলবাড়ী থেকে গিয়ে দেখি তারা চলে গেছে। উত্তেজনার বিষয়টি জানতে পেরে থানায় খবর দেই। লোকজন নিয়ে বড়ভিটা বাজারের ইফতার করতে যাই। এসময় বাদল সরদারের নেতৃত্বে লোকজন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করে। এতে আমাদের ৬ জন আহত হয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটে।’
 

বিএনপি নেতা বাদল সরদারের অভিযোগ প্রসঙ্গে আরিফ বলেন, ‘এ ঘটনায় আমার কোনও সম্পৃক্ততা নেই। তিনি (বাদল সরদার) ঘটনা ঘটিয়েছেন দুপুরে। এরপর সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল ঘুরে গেছেন। আমি অনেক পরে সেখানে যাই। তিনি বিনা উসকানিতে তার লোকজন দিয়ে হামলা করে আমাদের লোকজনকে আহত করেন। এখন আমাকে বিতর্কিত করতে মিথ্যা এবং বানোয়াট গল্প বলছেন।’
 

এ ঘটনায় ইউপি সচিব বাবুল হোসেনকে ফোন দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার মন্তব্য জানা যায়নি। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘চালের স্লিপ নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এটা কাম্য নয়। দল এমন ঘটনাকে প্রশ্রয় দেবে না।’
 

পুলিশের সামনে সংঘর্ষ ও রক্তাক্ত জখমের ঘটনা ঘটলেও ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মামুনুর রশীদ সংঘর্ষের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ‘দুই পক্ষের উত্তেজনার খবরে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দিয়েছি। আমরা যখন গিয়েছি তখন কোনও সংঘর্ষ হয়নি। সংঘর্ষের বিষয়টি আমার নলেজে নেই। তাই আহত হওয়ার বিষয়টি বলতে পারছি না।’


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫