মুরাদনগরে বন বিভাগের কার্যালয়ই এখন জঙ্গল: দায়িত্বে অবহেলা, অনুপ্রবেশ ও মাদকের নিরাপদ আশ্রয়ের অভিযোগ
রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

বন সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বন বিভাগের মুরাদনগর কার্যালয়ই এখন চরম অব্যবস্থাপনার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল একটি সরকারি দপ্তরের পরিবর্তে আগাছা, ঝোপঝাড় ও অপরিকল্পিত গাছপালায় ঢেকে গিয়ে কার্যালয়টি কার্যত জঙ্গলে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কার্যালয়ের ভবন, বারান্দা ও আশপাশের খোলা জায়গা দীর্ঘদিনের অযত্নে ভরা। চলাচলের পথ উঁচু আগাছা ও বিষাক্ত লতায় ঢেকে গেছে। এমনকি বন বিভাগের সরকারি সাইনবোর্ডও আগাছার আড়ালে পড়ে থাকায় দূর থেকে এটি সরকারি দপ্তর বলেই শনাক্ত করা কঠিন।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, কার্যালয়ের চারপাশে বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ চলছে। সন্ধ্যার পর প্রাঙ্গণটি মাদকাসক্তদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রায়ই সেখানে মাদক সেবনের দৃশ্য দেখা যায়, যা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

আগাছা ও ঝোপঝাড়ে ভরা প্রাঙ্গণে সাপ, কীটপতঙ্গ ও মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। সন্ধ্যার পর এলাকাটি অনিরাপদ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। নারী ও শিশুদের চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, মুরাদনগর বন বিভাগের কার্যালয়ে অনুমোদিত চারজন জনবল থাকলেও বাস্তবে একজন প্রতিবন্ধী কর্মচারীর ওপরই পুরো কার্যালয় দেখভালের দায়িত্ব বর্তেছে। পর্যাপ্ত জনবল ও নিয়মিত তদারকির অভাবে কার্যালয়ের পরিবেশ দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কার্যালয়ের ভেতরে থাকা একটি পুকুরও দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কোনো সংস্কার বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এটি এখন ঝোপঝাড়ে ঘেরা বিপজ্জনক স্থানে পরিণত হয়েছে, যা যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, কোম্পানিগঞ্জ বাজার এলাকায় অবস্থিত বন বিভাগের কার্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুরাদনগর বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএফএনটিসি) মো. মোবাশ্বির হাসান মিতুলের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার এমন নীরবতা বন বিভাগের দাপ্তরিক তদারকি ও জবাবদিহি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ, এই অব্যবস্থাপনার সুযোগ নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে কার্যালয় এলাকায় অনিয়ম ও অনুপ্রবেশ চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান বলেন, বন বিভাগের কার্যালয়ের অব্যবস্থাপনার বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তিনি জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে এ ধরনের অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত কার্যালয় প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন করা এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম রোধে নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
সচেতন নাগরিকরা দ্রুত কার্যালয় প্রাঙ্গণ পরিষ্কার, আগাছা অপসারণ, সাইনবোর্ড দৃশ্যমান করা, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, পরিত্যক্ত পুকুর সংস্কার এবং নিয়মিত প্রশাসনিক নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে মুরাদনগর বন বিভাগের কার্যালয় আবারও পরিবেশ সংরক্ষণ ও সুশাসনের একটি দৃষ্টান্তে পরিণত হতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬