|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৯ আগu ২০২৫ ০২:২২ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৮ আগu ২০২৫ ১২:২৯ অপরাহ্ণ

বেল্ট অ্যান্ড রোড হেলথকেয়ার, বাংলাদেশের আগস্ট ২০২৫-এর সফল আয়োজনসমূহ


বেল্ট অ্যান্ড রোড হেলথকেয়ার, বাংলাদেশের আগস্ট ২০২৫-এর সফল আয়োজনসমূহ


মোহাম্মদ তারেক, বিশেষ প্রতিনিধি:-


 

বেল্ট অ্যান্ড রোড হেলথ কেয়ার বাংলাদেশের মাসব্যাপী সম্মেলনের অনুষ্ঠানটি শুরু হয়েছিল ৬ আগস্ট।


জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে । সাংবাদিক সম্মেলন, যেখানে ঘোষণা দেওয়া হয় আসন্ন “নি হাও! চায়না-বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা উন্নয়ন প্রদর্শনী”-এর। এই সম্মেলনে বেল্ট অ্যান্ড রোড হেলথকেয়ার সেন্টার জানায় যে প্রদর্শনীতে চীনের ১২টিরও বেশি শীর্ষ হাসপাতাল অংশ নেবে এবং বাংলাদেশি রোগীদের জন্য অন-সাইট ও অনলাইন বিশেষজ্ঞ পরামর্শ, ভিসা সহায়তা, ফ্রি অনুবাদ সেবা এবং বিমানবন্দর পিকআপ সুবিধা প্রদান করবে। গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের বিশেষ অ্যাক্সেস ও কাভারেজ সুবিধার কথাও ঘোষণা করা হয়েছিল । “নি হাও! চীনা-বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা উন্নয়ন প্রদর্শনী” মূল আয়োজক প্রতিষ্ঠান বেল্ট অ্যান্ড রোড হেলথকেয়ার সেন্টার, বাংলাদেশ–এর সঙ্গে সম্মিলিতভাবে সহযোগিতা করছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন: চায়নিজ মেডিকেল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, চায়না-বাংলাদেশ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডক্টরস অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, এবং আমরা নারী।
৮ আগস্ট  “নি হাও! চায়না-বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা উন্নয়ন প্রদর্শনী” হোটেল সারিনায় দিনব্যাপী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছিল। উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা  নূরজাহান বেগম। উপস্থিত ছিলেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. মো. সায়েদুর রহমান এবং বিকেএসপি’র মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. মো. মুনিরুল ইসলাম। চীনের হাসপাতাল প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে চিকিৎসা সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন এবং ভবিষ্যতে হাসপাতাল স্থাপন ও চিকিৎসক প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। হাজারো দর্শনার্থীর অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই এক্সপো সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল , যা গণমাধ্যমের কাভারেজের মাধ্যমে সারাদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলে। প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ সেমিনার আয়োজন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্য প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং চীনের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে বাংলাদেশ-চীন স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতার সম্ভাবনা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, এবং রোগীদের জন্য আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহজলভ্য করার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। গণমাধ্যমের অংশগ্রহণ সেমিনারের আলোচনাগুলোকে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।


প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য এবং রোগীদের জন্য সুবিধাসমূহসহ:
অংশগ্রহণ করবেন চীনের ১২টিরও বেশি স্বনামধন্য হাসপাতালের প্রতিনিধি, চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা।
রোগীরা পাবেন অন-সাইট এবং অনলাইন বিশেষজ্ঞ পরামর্শ।
ফ্রি সার্ভিস (আমন্ত্রণপত্র, ভিসা, ট্রান্সলেটর, এয়ারপোর্ট পিকআ। 
সরাসরি চায়নার হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার আমন্ত্রণপত্র।
অনস্পট ভিসা সহায়তা। ভিসা প্রসেস, আমন্ত্রণপত্র প্রদান ও চীনে যাত্রার সহযোগিতা প্রদর্শনীস্থল থেকেই নিশ্চিত করা হবে।
বিমানবন্দর পিকআপ থেকে শুরু করে ফ্রি অনুবাদ সেবা-সহ যাবতীয় সহায়তা থাকবে রোগীদের জন্য।

৯ আগস্ট   হোটেল সেরিনা-তে বেল্ট অ্যান্ড রোড হেলথকেয়ার সেন্টার, বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল একটি বিশেষ আয়োজন “ক্লাসিক্যাল মিউজিক, ডিনার ও চীনা চিকিৎসক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ইন্টার‌্যাক্টিভ আলোচনা।” এটি ছিল এক অনন্য ও স্মরণীয় সন্ধ্যা। শাস্ত্রীয় সংগীতের সুরমাধুর্যে ভরা পরিবেশ, সুস্বাদু খাবারের রসনা তৃপ্তি এবং বিশিষ্ট অতিথিদের প্রাণবন্ত আলোচনায় অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে এক ভিন্নমাত্রিক অভিজ্ঞতা। এ আয়োজন একই সঙ্গে চিহ্নিত করে “নি হাও! চায়না–বাংলাদেশ হেলথ অ্যান্ড মেডিকেল ডেভেলপমেন্ট এক্সিবিশন”-এর সমাপনী অনুষ্ঠান।


২৬ আগস্ট ২০২৫ –মতবিনিময় ডিনার বেল্ট অ্যান্ড রোড হেলথকেয়ার সেন্টারের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী কোরবান আলী এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. মারুফ মোল্লা এক যৌথ বক্তব্যে বলেন, “এই আন্তঃদেশীয় আয়োজনের মাধ্যমে আমরা চীনের উন্নতমানের চিকিৎসা সেবা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চীনের অংশগ্রহণকারী হাসপাতালগুলোর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাঠাতে আগ্রহী। পাশাপাশি, একাধিক আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশি চিকিৎসকদের জন্য উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রমে সহযোগিতা বাড়ানোরও অঙ্গীকার করেছেন তারা।”


বেল্ট অ্যান্ড রোড হেলথকেয়ার সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ডা. মারুফ মোল্লা আরও বলেন, “‘নি হাও! চায়না–বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা উন্নয়ন প্রদর্শনী’ কেবল একটি প্রদর্শনী নয়; বরং এটি দুই দেশের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা ও বিনিময়ের এক নতুন অধ্যায়। আমাদের লক্ষ্য হলো, চীনের প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক চিকিৎসা বাংলাদেশি রোগীদের জন্য আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করা।”


বেল্ট অ্যান্ড রোড হেলথকেয়ার সেন্টারের কনসালটেন্ট ডা. রাশেদুল হাসান (রুবেল) গণমাধ্যমের ভূমিকাকে বিশেষভাবে তুলে ধরে বলেন ‘নি হাও! চায়না–বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা উন্নয়ন প্রদর্শনী’র মূল সাফল্য নির্ভর করছে গণমাধ্যমের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর। সাংবাদিক, পত্রিকা ও অন্যান্য গণমাধ্যম আমাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম এবং সেবামুখী প্রদর্শনীর অন্যতম অংশীদার।


উপদেষ্টা ও ‘আমরা নারী’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এম এম জাহিদুর রহমান বিপ্লব বলেন, “এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমের অংশগ্রহণকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। আমরা আন্তরিকভাবে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করছি, যাতে সাধারণ মানুষ এই সুযোগ সম্পর্কে সচেতন হয় এবং প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে আগ্রহী হয়ে ওঠে। আমরা বিশ্বাস করি, মিডিয়ার সহযোগিতার মাধ্যমেই আমাদের বার্তা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবে।” মাসব্যাপী সফল আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে ধন্যবাদ ও মতবিনিময় ডিনারের মাধ্যমে, যেখানে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়। এই অনুষ্ঠানে বেল্ট অ্যান্ড রোড হেলথকেয়ার, বাংলাদেশ তাদের অভিজ্ঞতা, সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শেয়ার করে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনা হয়, যাতে গণমাধ্যম আরও কার্যকরভাবে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে।

 

গণমাধ্যমের ভূমিকা: স্বাস্থ্যসেবা বিস্তারে অনন্য সেতুবন্ধন ধন্যবাদ, মতবিনিময় ও গণমাধ্যমকর্মীদেরকে কৃতজ্ঞতা ২০২৫ সালের আগস্ট মাস জুড়ে বেল্ট অ্যান্ড রোড হেলথকেয়ার, বাংলাদেশ একাধিক সফল আয়োজন সম্পন্ন করেছে। এসব আয়োজন শুধু একটি প্রদর্শনী বা সেমিনার নয়; বরং বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। প্রতিটি কার্যক্রমে গণমাধ্যমের সক্রিয় উপস্থিতি ও সমর্থন জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।


আগস্ট ২০২৫-এর ধারাবাহিক আয়োজন প্রমাণ করেছে, গণমাধ্যম কেবল সংবাদ পরিবেশক নয়, বরং একটি শক্তিশালী সামাজিক শক্তি। বেল্ট অ্যান্ড রোড হেলথকেয়ার, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, স্বাস্থ্যসেবা বিস্তারে গণমাধ্যমই জনগণের সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরি করে, আর জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই সহযোগিতা অপরিহার্য।


“নি হাও! চায়না–বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা উন্নয়ন প্রদর্শনী” আমাদের জন্য শুধুই একটি অনুষ্ঠান ছিল না; এটি ছিল বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিনিময়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের যাত্রা। এই যাত্রার প্রতিটি ধাপে গণমাধ্যমের সক্রিয় অংশগ্রহণ আমাদের লক্ষ্য অর্জনে ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিক, টেলিভিশন, পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়া এই আয়োজনে শুধু দর্শক নয়, বরং সক্রিয় অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। তাদের প্রচার, প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণের মাধ্যমেই এই প্রদর্শনী ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃহত্তর জনগণের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে।


বেল্ট এন্ড রোড হেলথকেয়ার, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তথ্যের সঠিক প্রবাহ অত্যাবশ্যক। আর সেই তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো গণমাধ্যম। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসচেতনতা, সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবার গুরুত্ব, এসব বিষয় সাংবাদিকদের নিরলস প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীল উপস্থাপনার মাধ্যমে জনগণের কাছে আরও স্পষ্ট হয়েছে। এই আয়োজন প্রমাণ করেছে, গণমাধ্যম কেবল তথ্য সরবরাহকারী নয়, বরং একটি শক্তিশালী সামাজিক শক্তি, যা মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে। তাই আমাদের কাছে গণমাধ্যমের ভূমিকা কেবল তাৎপর্যপূর্ণ নয়, বরং অনন্য ও অপরিহার্য।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫