|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৭:৪০ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০২:০৫ অপরাহ্ণ

কুড়িগ্রামে জনপ্রিয় হচ্ছে বেইজিং বা পেকিন জাতের হাঁস চাষ


কুড়িগ্রামে জনপ্রিয় হচ্ছে বেইজিং বা পেকিন জাতের হাঁস চাষ


আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-


 

কুড়িগ্রামে দিন দিন চীনের বেইজিং বা পেকিন জাতের হাঁস পালন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। মাংস উৎপাদনের পাশাপাশি গ্রামীণ বেকার অনেকের ভাগ্য বদলে দিচ্ছে এই পেকিন হাঁস। সৃষ্টি হয়েছে নারী-পুরুষের নতুন কর্মসংস্থান।

 


 

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণীসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলায় প্রায় ছয় হাজার হাঁসের খামার রয়েছে। এরমধ্যে ছয় শতাধিক খামারি পেকিন জাতের হাঁস পালন করছেন।
 

রাজারহাট উপজেলার টগরাইহাট মাধাই গ্রামের মীর মোশারফ হোসেন পেশায় একজন খামারি। আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে উঁচু মাচায় গড়ে তুলেছেন চীনের পেকিন জাতের হাঁসের খামার।
 

এই জাতের হাঁস মূলত মাংস উৎপাদনের জন্য পালন করা হয়। পেকিন হাঁস দেখতে আকর্ষণীয় এবং অত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল। সঠিক পরিচর্যা এবং সুষম খাবারের মাধ্যমে মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই প্রতিটি হাঁস গড়ে তিন থেকে চার কেজি ওজনের হয়। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে এক হাজার পেকিন হাঁস।

 
দেশজুড়ে এই হাঁসের চাহিদা থাকায় অনলাইনের মাধ্যমে ঢাকা, কুমিল্লা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন প্রান্তে বাজারজাত করছেন। দ্রুত বর্ধনশীল হাঁস পালন করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ায় এই হাঁস পালনে অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। নিজের ভাগ্যের পরিবর্ত‌নের সঙ্গে এলাকার অর্ধশতাধিক বেকার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছেন তি‌নি।

 

মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ব্যাংক লোন নিয়ে ২০২২ সালে ১০ হাজার ব্রয়লার মুরগি পালন শুরু করি। এরমধ্যে বার্ড ফ্লু রোগে আক্রান্ত হয়ে সব মুরগি মারা যায়।
 

খামারের ব্যবসায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ক্ষোভে খামারটি বন্ধ ফে‌লি। পরে বেসরকারি সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশের পেকিন হাঁসের একটি সাইনবোর্ড দেখে আবারও উদ্বুদ্ধ হই। এরপর ওই সংস্থার সহায়তায় পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ১০০ হাঁস দিয়ে শুরু ক‌রি আবারও খামারের ব্যবসা। এখন আলহামদু‌ল্লিাহ ব‌্যবসায় অনেক লাভ হয়।’

 
মোশার‌ফের খামা‌রে কাজ করা নারী শ্রমিক রহিমা বেগম, মোস‌লেমা খাতুন, খা‌দিজা বেগম বলেন, সাংসারিক কাজের ফাঁকে গ্রামের ২৫-৩০ জন নারী শ্রমিক খামারে কাজ কর‌ছি। প্রতি সপ্তাহে ২-৩ দিন করে কাজ করা যায়। খামারে দিন মজুরি হিসেবে ৩০০ টাকা এবং চুক্তিভিত্তিক জবাইকৃত হাঁস প্রসে‌সিং কর‌লে প্রতি পিস হাঁস ২৫-২৭ টাকা পাওয়া যায়।

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রহমত আলী বলেন, ‘দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় বেসরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থাও ভূমিকা রেখে চলেছে। খামারিদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।’


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫