|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৪ এপ্রিল ২০২৫ ১১:০১ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২১ মে ২০২৩ ০৩:১৩ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে হিফজ প্রতিযোগিতার প্রচলন যেভাবে


বাংলাদেশে হিফজ প্রতিযোগিতার প্রচলন যেভাবে


সমানি গ্রন্থগুলোর মধ্যে অমর, অবিনশ্বর ও চিরন্তন অলৌকিকতায় পূর্ণ আল কোরআন সর্বকালে মানুষকে কল্যাণের অফুরন্ত ধারায় সিক্ত করেছে; সত্যান্বেষীদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। বিশ্বজনীন এ গ্রন্থের আবেদন ও উপযোগিতা সব যুগে এবং সব স্থানে কার্যকর আছে। কোরআনের শিক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে মুসলমানরা পৃথিবীকে একটি উন্নত সভ্যতা উপহার দিয়েছে।

অন্যদিকে কোরআনের হাফেজরা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থের ধারক।

হাফেজদের অন্তরে কোরআন সংরক্ষণ আল্লাহর মহা কুদরতের বহিঃপ্রকাশ। কুদরতি নিয়মে হাজার বছর ধরে অত্যন্ত বিস্ময়কর প্রক্রিয়ায় এ গ্রন্থকে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। লিখে রাখার পাশাপাশি হাজার বছর ধরে হৃদয় থেকে হৃদয়ে একে ধারণ করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোরআনের লাখো হাফেজ বা মুখস্থকারী রয়েছেন।


মানব ইতিহাসে আর কোনো গ্রন্থের এত হাফেজ নেই।
বাংলাদেশে পবিত্র কোরআন হিফজ করার প্রথা আবহমানকাল থেকেই চলে আসছে। দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কোরআন মুখস্থ করার প্রতিষ্ঠান ‘হাফিজিয়া মাদরাসা’র ইতিহাসও অনেক পুরনো। কিন্তু কোরআন মুখস্থ করাকে শৈল্পিক রূপরেখায় নিয়ে যাওয়া এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, উৎসাহ প্রদান ও পদ্ধতিগত উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে ‘হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা’র আয়োজন করা হয়।

এ ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে সবিশেষ ভূমিকা পালন করেছে দেশের বৃহৎ ও বিখ্যাত কওমি মাদরাসা আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া, পটিয়া, চট্টগ্রাম। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে পরিচালিত হয় ‘বাংলাদেশ তাহফিজুল কোরআন সংস্থা’। এটি একটি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণমূলক সংস্থা। স্বল্প সময়ে পবিত্র কোরআন হিফজ করার জন্য শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করার মাধ্যমে তাজবিদ তথা বিশুদ্ধ পাঠভিত্তিক হিফজ শিক্ষার সম্প্রসারণ ও পবিত্র কোরআনের সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের ছড়ানো-ছিটানো হিফজ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুসংগঠিত করে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে দেশের বিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শক্রমে ১৩৯৬ হিজরি মোতাবেক ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে ‘বাংলাদেশ তাহফিজুল কোরআন সংস্থা’ আত্মপ্রকাশ করে।

সংস্থার সূচনালগ্ন থেকে হিফজ বিভাগের ছাত্রদের মন ও মনন বিকাশের লক্ষ্যে যুগ যুগ ধরে ‘হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।


১৯৭৬ সালে আল জামিয়া আল ইসলামিয়া, পটিয়ার দ্বিতীয় মহাপরিচালক হাজী মুহাম্মদ ইউনুস এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময়ে ওই প্রতিষ্ঠানে হাজী মুহাম্মদ ইউনুস (রহ.)-এর ছায়াসঙ্গী ও ‘পলিসি ম্যাকার’ ছিলেন ফকিহুল মিল্লাত মুফতি আব্দুর রহমান (রহ.)। এই সংস্থার পক্ষ থেকে প্রতিবছর হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ধীরে ধীরে এই প্রতিযোগিতার প্রভাব সারা দেশে পড়তে থাকে।

পরে ১৯৯৬ সালে ‘হুফফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কারি মুহাম্মদ বজলুল হক (রহ.)। প্রতিষ্ঠার পর তিনিই এর প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন। তবে দুই বছর পর কারি আবদুল হক এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯৭ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই সংগঠন বাংলাদেশে জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে।

এ ছাড়া ‘বাংলাদেশ হিফজ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড’ হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। তা ছাড়া রমজান উপলক্ষে মাসব্যাপী বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫