ওয়ার্ডে প্রশাসক নিয়োগে তৎপরতায় বিএনপির ‘না’

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২০ মার্চ ২০২৫ ০২:২৮ অপরাহ্ণ   |   ১২৭ বার পঠিত
ওয়ার্ডে প্রশাসক নিয়োগে তৎপরতায় বিএনপির ‘না’

ঢাকা প্রেস নিউজ

 

রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১২৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রশাসক নিয়োগের জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠন সম্ভাব্য প্রশাসকদের তালিকা তৈরি করছে। তবে বিএনপি এবং অধিকাংশ রাজনৈতিক দল প্রশাসক নিয়োগের বিরোধী। তাদের বক্তব্য, এনসিপিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এই আয়োজন, যা তারা মেনে নেবে না।
 

২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন সংশোধন করে, অন্তর্বর্তী সরকার একটি কমিটি গঠন করার বিধান যোগ করেছে। এই কমিটির সদস্যরা কাউন্সিলরের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
 

এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা স্থানীয় সরকারের সহায়তা ও নাগরিক সেবা নিজেদের পক্ষে করতে তৎপর। এমনকি সম্ভাব্য প্রশাসকদের তালিকা প্রস্তুত করতে সাক্ষাৎকার নেওয়ার গুঞ্জনও চলছে। তবে এনসিপি এই গুঞ্জন ও অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, সিটি নির্বাচনে স্থানীয় পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ও ছায়া সরকারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
 

বিএনপি, যা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে জাতীয় নির্বাচনের পক্ষে, তারা প্রশাসক নিয়োগের বিরুদ্ধে। বিএনপির নেতারা বলছেন, প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন দলকে এনসিপিতে যোগ দেওয়ার প্রলোভন দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে বিএনপির নেতাদের নির্দেশনা রয়েছে যে, তারা এই প্রলোভনে সাড়া দেবেন না।
 

শেখ হাসিনার পতন ঘটানো অভ্যুত্থানের নেতাদের উদ্যোগে গঠিত এনসিপি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করা এনসিপি "কিংস পার্টি" হয়ে না উঠতে পারে, এমন প্রশ্ন উঠেছে। যদিও দলটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে, জেলা-উপজেলায় সংগঠন এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তারা রমজানের পর সংগঠন বিস্তারের পরিকল্পনা করছে।
 

বিএনপি এবং অন্যান্য দলের ভাষ্য, স্থানীয় সরকারের ওয়ার্ডে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে এনসিপি তৃণমূল সংগঠন তৈরি করতে চাচ্ছে। তাদের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা ও সহায়তা বণ্টন করা হলে এনসিপি ভবিষ্যতে নির্বাচনে সুবিধা পাবে। জামায়াতে ইসলামীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, "প্রশাসক নিয়োগের দরকার কী? স্থানীয় নির্বাচন হলে তো জনপ্রতিনিধিত্ব শূন্যতা থাকে না।"
 

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান জানিয়েছেন, প্রশাসক নিয়োগের চেষ্টা হচ্ছে এনসিপির ভিত্তি তৈরি করার জন্য, এবং লেনদেনের কথাও শোনা যাচ্ছে। তিনি বলেন, "এনসিপি যদি প্রশাসক নিয়োগ করতে পারে, তবে সরকারই বিতর্কিত হবে।"
 

গত ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ১২ সিটি করপোরেশনের সব কাউন্সিলর ও ৩২৩ পৌরসভার কাউন্সিলরদের অপসারণ করা হয়। একই দিন সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, তবে কাউন্সিলর, ভাইস চেয়ারম্যান, ও সদস্যপদগুলো শূন্য রয়েছে। শুধুমাত্র চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন।
 

এনসিপি নেতারা জানিয়েছেন, প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে তারা কোনো লেনদেনের সাথে যুক্ত নন এবং এটি একেবারে মিথ্যা অভিযোগ। তাদের বক্তব্য, এনসিপির ওয়ার্ডভিত্তিক ছায়া সরকারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক দলের জন্য প্রয়োজনীয়।
 

এনসিপি সংসদের আগে স্থানীয় নির্বাচন চায়। দলের নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন এবং সরকারকে স্থানীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করছেন। তবে বিএনপি এবং তার নেতারা এর বিরোধিতা করছে এবং জানিয়েছে, সংসদের আগে কোনো অন্য নির্বাচন তারা মেনে নেবে না।