|
প্রিন্টের সময়কালঃ ১০ মার্চ ২০২৬ ০২:১৪ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৯ মার্চ ২০২৬ ০৩:২৫ অপরাহ্ণ

ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, পরে থানায় সোপর্দ


ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, পরে থানায় সোপর্দ


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে মারধর করে পরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
 

ভুক্তভোগীর নাম রাহিদ খান পাভেল। তিনি ঢাবির দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সোমবার ভোররাতে সেহরির সময় এ ঘটনা ঘটে।
 

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম, দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সর্দার নাদিম মাহমুদ শুভ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহর নাম উঠে এসেছে। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তরা একই বর্ষের শিক্ষার্থী। জানা যায়, সর্দার নাদিম মাহমুদ শুভ আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ছিলেন এবং পরে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের সঙ্গে যুক্ত হন।
 

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, সেহরি খেতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসের ক্যান্টিনে গেলে পাভেলকে ডেকে কথা বলেন হাসিবুল ইসলামসহ কয়েকজন। ছাত্রলীগ পুনর্বাসন, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের ইন্ধনে ইফতার পার্টি আয়োজন এবং সম্প্রতি ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার ইস্যুতে তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
 

পরে পাভেলকে বুয়েট ক্যাম্পাস থেকে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এনে কয়েক দফা মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়। পরে পুলিশ তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
 

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাবির দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী অদিতি ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন, ছাত্রলীগের ট্যাগ দিয়ে শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলের ওপর হামলার বিচার দাবি করছি। হামলাকারীদের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
 

তিনি আরও দাবি করেন, হামলায় জড়িত তিনজনের পরিচয় ইতোমধ্যে চিহ্নিত হয়েছে। তারা হলেন— সরদার নাদিম মাহমুদ শুভ, হাসিব আল ইসলাম এবং সাইফুল্লাহ। এরা সবাই ছাত্রশক্তির সঙ্গে যুক্ত এবং ঘটনাকে ‘কিছু সাধারণ শিক্ষার্থীর কাজ’ বলে আড়াল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
 

ঘটনার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সাইফুল্লাহ লিখেছেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ধরেছি। শাহবাগ থানায় নিয়ে যাচ্ছি। লীগ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
 

তবে এ বিষয়ে সাইফুল্লাহ বলেন, সেহরি খেতে বুয়েটে গেলে পাভেলকে দেখে হাসিব তাকে ডাকেন। এ সময় ছাত্রলীগ পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে পাভেল কাউকে ফোন দেন এবং পরে হাসিব ও শুভর সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তিনি দাবি করেন, তখন তিনি বুয়েট ক্যান্টিনেই ছিলেন। পরে শাহবাগ থানায় গিয়ে দেখেন পাভেলকে মারধর করা হয়েছে। ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকায় তিনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন।
 

তিনি আরও বলেন, পাভেল তার ব্যক্তিগতভাবে ভালো বন্ধু।
 

এ বিষয়ে জানতে হাসিবুল ইসলাম ও সর্দার নাদিম মাহমুদ শুভর সঙ্গে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। ঘটনার পর সর্দার নাদিম মাহমুদ শুভর ফেসবুক আইডিও বন্ধ পাওয়া গেছে।
 

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, পাভেল বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬