নির্বাচন সামনে, পুলিশকে থাকতে হবে শক্ত অবস্থানে

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৮ মার্চ ২০২৫ ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ   |   ১২৭ বার পঠিত
নির্বাচন সামনে, পুলিশকে থাকতে হবে শক্ত অবস্থানে

ঢাকা প্রেস নিউজ


 

আগামী ডিসেম্বরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন চাপ ও সংকট সৃষ্টি হতে পারে। এ সময় সবাই বেপরোয়া হয়ে উঠবে, তাই পুলিশের অবশ্যই আইন ও নিয়মের মধ্যে থেকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে হবে।
 

সোমবার পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসব নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, পুলিশের নিরপেক্ষতা ও সততা নিশ্চিত করতে স্বাধীন কমিশন গঠন জরুরি। অন্যথায় বাহিনী অতীতের নেতিবাচক অবস্থানে ফিরে যেতে পারে।
 

পুলিশের চ্যালেঞ্জ ও দাবি....
বৈঠকে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের চ্যালেঞ্জ ও দাবির কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, যানবাহনের অভাব, জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা ও অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে তারা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। পুলিশ কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, ভারতে, পাকিস্তানে ও শ্রীলঙ্কায় পুলিশ কমিশন রয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।

 

আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, অতীতে পুলিশের ওপর রাজনৈতিক চাপ ছিল, যা তাদের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করেছে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে পুলিশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে।
 

পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার নির্দেশ.....
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তি দেশে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র করছে। পুলিশকে আইন মেনে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। পুলিশকে সম্মানজনক অবস্থানে রাখতে হবে, যেন জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধ দমন করাই তাদের মূল দায়িত্ব।
 

নারী ও শিশু সুরক্ষার নির্দেশনা.....
প্রধান উপদেষ্টা বিশেষভাবে নারীর নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, পুলিশকে নিশ্চিত করতে হবে যে নারীরা সর্বত্র নিরাপদ থাকবে। নারী ও শিশু যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।

 

নতুন বাংলাদেশের লক্ষ্য ও পুলিশের ভূমিকা.....
তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য অতীতের ভুল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পুলিশকে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে আস্থা অর্জন করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আমরা দুনিয়ার মাঠের খেলোয়াড়, ছোটখাটো চিন্তা করলে চলবে না। সবাইকে টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করতে হবে।"

 

পুলিশকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, "যে সরকার নির্বাচিত হয়ে আসবে, তারা যেন আইনের সরকার হয়। আইন ভেঙে কেউ ক্ষমতায় এলে তারা কখনোই সুশাসন দিতে পারবে না। কাজেই, আইন মেনে কাজ করাই হবে পুলিশের মূল দায়িত্ব।"
 

সংস্কার ও চাপমুক্ত পুলিশিং....
বৈঠকে পুলিশের সংস্কার ও আধুনিকায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, থানাগুলোতে জনবল বাড়ানো, আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজন ও অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি।

 

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পুলিশ হবে জনগণের আশ্রয়স্থল। তাদের এমন একটি ভাবমূর্তি তৈরি করতে হবে, যাতে মানুষ বলে— "এটাই নতুন বাংলাদেশের পুলিশ।"
 

তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা না করে, প্রয়োজনীয় সংস্কার এখনই বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ, আইনশৃঙ্খলা ঠিক থাকলেই গণতন্ত্র ও সুশাসন সম্ভব।
 

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলমসহ ১২৭ জন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা।