|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৭:৩৭ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১২:৪২ অপরাহ্ণ

বঞ্চিতদের বিক্ষোভ: নতুন ছাত্রসংগঠন নিয়ে উত্তপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


বঞ্চিতদের বিক্ষোভ: নতুন ছাত্রসংগঠন নিয়ে উত্তপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


ঢাকা প্রেস নিউজ

 

নবগঠিত ছাত্রসংগঠন ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ’-এর আত্মপ্রকাশকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংগঠনের গঠনতন্ত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। এ নিয়ে সংঘর্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

 

এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের দাবি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যদি তাদের দাবি পূরণ না হয়, তাহলে ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘ঢাকা ব্লকেড’ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
 

বৃহস্পতিবার বাংলামোটরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করে এ ঘোষণা দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাঈম আবেদিন এবং সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক এম জে এইচ মঞ্জু। পরে রাত ১১টার দিকে তারা অবরোধ তুলে নেন।

 

নাঈম আবেদিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সংগঠন করা হচ্ছে, অথচ তাদেরকেই নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।"
 

তিনি আরও বলেন, “নতুন ছাত্রসংগঠনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা, সাত কলেজ—কাউকেই রাখা হয়নি। আমাদের বাদ দিলে আমরা পুরো ‘ঢাকা ব্লকেড’ করে দেব।”
 

সংগঠনের অন্যতম নেতা এম জে এইচ মঞ্জু জানান, হামলার বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। যদি এতে সমাধান না আসে, তাহলে ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘ঢাকা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করা হবে।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা সমন্বয়ক রিফাত রশীদকে সদস্যসচিব করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে নতুন কমিটিতে তার কোনো পদ না থাকায় অসন্তোষ দেখা দেয়। এছাড়া, নাঈম আবেদিনকে মুখ্য সংগঠক করার পক্ষেও দাবি ছিল, যা পূরণ হয়নি।
 

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নুর হাসান গত ২০ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন, যেখানে তিনি লেখেন, “নতুন ছাত্রসংগঠনে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে নাঈম আবেদিন ভাইকে মুখ্য সংগঠক হিসেবে দেখতে চাই।”

 

বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে নতুন ছাত্রসংগঠনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে এসে প্রতিবাদ জানান। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন, যেমন:

  • “ঢাবির সিন্ডিকেট মানি না, মানবো না”
  • “রিফাত রশীদ ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই”
  • “রিফাত রশীদ এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে”

 

সংবাদ সম্মেলন চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে মধুর ক্যান্টিনের ভেতরে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান চালাতে বাধ্য হয় সংগঠনটি। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, মারামারি হয় এবং কয়েকজন আহত হন।
 

এতে গুরুতর আহত হন ফারহানা বুশরা অমি, মো. রিয়াদসহ চারজন। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশু আলী, রিয়াজ হোসেন, আকিবুল হাসানও আহত হন।

 

সংগঠনের আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার বলেন, “বিক্ষোভকারীরা কমিটি ঘোষণা হওয়ার আগেই বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন, যা তাদের অন্য উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয়। আমরা সকল ছাত্রদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করব এবং যৌক্তিক দাবি থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করব।”
 

এই পরিস্থিতিতে নতুন ছাত্রসংগঠনের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নির্ভর করছে দাবি পূরণ এবং পরবর্তী আন্দোলনের গতিপথের ওপর।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫