প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বৈঠক চলছে

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৭ মার্চ ২০২৫ ০১:২৩ অপরাহ্ণ   |   ১২৪ বার পঠিত
প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বৈঠক চলছে

ঢাকা প্রেস নিউজ


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের ১২৭ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এক বিশেষ বৈঠক চলছে।

 

সোমবার সকাল সোয়া ১১টায় প্রধান উপদেষ্টার তেজগাঁও কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন তিনি নিজেই।
 

এর আগে, রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। এ প্রেক্ষাপটে সোমবার দেশের মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন প্রধান উপদেষ্টা।
 

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের সব জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), রেঞ্জ ডিআইজি, মহানগর পুলিশ কমিশনার, বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান, পুলিশ সদর দপ্তরের তিনজন ডিআইজি, অতিরিক্ত আইজিপিরা এবং আইজিপি উপস্থিত রয়েছেন। বৈঠকে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা হবে।
 

অনুষ্ঠানে পুলিশের পক্ষ থেকে ‘স্বাধীন পুলিশ কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব উত্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পুলিশের একশ্রেণির সদস্যের নির্বিচার গুলিতে অসংখ্য প্রাণহানি ঘটে। এ কারণে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর পুলিশকে নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত রাখতে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের দাবি উঠে।
 

পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এআইজি ইনামুল হক সাগর জানান, প্রধান উপদেষ্টার দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে পুলিশ সদস্যরা উজ্জীবিত হবেন এবং বাহিনীর মধ্যে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়বে। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন প্রত্যাশা ও সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। এই বৈঠকেও সেসব বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
 

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকার ৩ অক্টোবর পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করে এবং কমিশন ১৫ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে ‘পুলিশ কমিশন’ গঠনের বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়। তবে, এটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হবে নাকি সাংবিধানিক কাঠামোভুক্ত প্রতিষ্ঠান হবে— সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
 

সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের জন্য পৃথক একটি কমিশন গঠনের বিষয়ে আরও বিশদ বিশ্লেষণ প্রয়োজন। প্রস্তাবিত কমিশনের সদস্য হিসেবে চারজন অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে, যেখানে একজন আইনজ্ঞ, একজন অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি, একজন সমাজবিজ্ঞান বা পুলিশিং বিশেষজ্ঞ শিক্ষাবিদ এবং একজন মানবাধিকারকর্মী থাকবেন।
 

তবে, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে এই সুপারিশ নিয়ে বাহিনীর মধ্যে আপত্তি রয়েছে। অনেক পুলিশ সদস্যের মতে, কমিশনের সুপারিশে জনগণের চাওয়াকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তারা মনে করছেন, কমিশনের সদস্যরা যখন ‘বিশেষজ্ঞ মতামত’ গ্রহণের কথা বলেন, তখন তাদের নিজস্ব ভূমিকা ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ছাড়া, ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিচার-বিশ্লেষণের’ বিষয়টিকে সংস্কার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘসূত্রিতার দিকে ঠেলে দেওয়ার কৌশল হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।