রাজধানীর খিলক্ষেতে ছয় বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনা: ফুটেজ দেখে হামলাকারী খুঁজছে পুলিশ

ঢাকা প্রেস নিউজ
রাজধানীর খিলক্ষেতে ছয় বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে। বর্তমানে শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটা ভালো। তবে, শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, গণপিটুনিতে আহত অভিযুক্ত কিশোর রবিউল ইসলাম ওরফে জান মিয়ার শারীরিক অবস্থা শঙ্কামুক্ত নয়।
এই ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। পুলিশি তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন কিশোরকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়াও, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে অজ্ঞাতপরিচয় দুই থেকে তিন হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় ইতিমধ্যেই মোবারক হোসেন সজীব ও মো. ইউসুফ নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ দেখে বাকি আসামিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে খিলক্ষেতের মধ্যপাড়ায় এই ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা অভিযুক্ত রবিউলকে আটক করে মারধর করে। পরে, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত কিশোরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন পুলিশের গাড়ির সামনে ব্যারিকেড দেয় এবং পুলিশের কাছ থেকে রবিউলকে ছিনিয়ে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এই ঘটনায় খিলক্ষেত থানার পরিদর্শকসহ (তদন্ত) সাত পুলিশ সদস্য আহত হন এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
ওসিসির সমন্বয়ক ডা. সাবিনা ইয়াসমিন জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে। ভুক্তভোগী শিশুটির মা একটি এনজিওতে চাকরি করেন এবং বাবা পেশায় পিকআপ চালক। শিশুটি তার নানির বাসায় থাকতো। ঘটনার দিন, রবিউল শিশুটিকে তাদের দোতলার বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে, রবিউলের মা মাহফুজা বেগমের দাবি, তার ছেলে এই ঘটনায় জড়িত নয় এবং তার বয়স মাত্র ১১ বছর। তার দাবি, প্রতিবেশী শিশুটির সাথে খেলা করার সময় মজা করে শিশুটির পায়জামা খুলে ফেলে এবং এর জের ধরেই রবিউলকে ফাঁসানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আলম ও খলিল নামে স্থানীয় দুই প্রভাবশালী প্রথমে সালিশের মাধ্যমে ঘটনাটি নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন। তারা রবিউলকে চড়থাপ্পড় মেরে মারধরের সূত্রপাত করেন। পরে,অন্যান্য লোকজনও এতে যোগ দেয়। পুলিশের ওপর হামলার প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক দলের কর্মী দেলোয়ার হোসেন জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব।
এদিকে,পল্লবীতে নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার এনামুল হক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫