কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০১ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ   |   ৫৯০ বার পঠিত
কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু

ঢাকা প্রেস
মঈনুদ্দীন শাহীন,ষ্টাফ রিপোর্টার (কক্সবাজার):-

 

দীর্ঘ নয় মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।
 

রোববার (১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটি ঘাট থেকে ৬৫৩ জন যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে বার আউলিয়া নামের জাহাজটি প্রথম যাত্রা শুরু করে।

 

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এই রুটে জাহাজ চলাচল আবার চালু হলো। প্রথম দিনেই বার আউলিয়া জাহাজটি ৬৫৩ জন যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
 

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াছমিন চৌধুরী জানান, প্রথমদিনের যাত্রা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং সব কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

 

সম্প্রতি নাফ নদীতে ডুবোচর জেগে ওঠায় নাব্য সংকট এবং মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলির কারণে নিরাপত্তার অভাবে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

 

পরিবেশ ও পর্যটন নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী:

  • নিবন্ধন ও ট্রাভেল পাস:
    সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের জাহাজ ছাড়ার স্থান থেকে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করতে হবে।

  • পরিবেশ সংরক্ষণ:

    • অনুমোদিত জাহাজে পলিথিন ব্যাগ ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের পণ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
    • পর্যটকদের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য প্রবেশপথে বিলবোর্ড স্থাপন করা হবে।
  • পর্যটকদের তথ্য সংরক্ষণ:

    • সেন্টমার্টিনে পৌঁছানোর পর পর্যটকদের হোটেলের তথ্য নিবন্ধিত করা হবে।
    • পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয় এই প্রক্রিয়া তদারকি করবে।

 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সেন্টমার্টিনের পর্যটন নিয়ন্ত্রণে একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। এই কমিটি পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। প্রয়োজনে কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়ানোরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
 

উল্লেখ্য, প্রতিবছর অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। বাকি ছয় মাস সাগরের প্রতিকূল অবস্থার কারণে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকে।