|
প্রিন্টের সময়কালঃ ১০ মার্চ ২০২৬ ০৮:৩৫ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ১০ মার্চ ২০২৬ ০৫:৪৬ অপরাহ্ণ

এসি চালানো শিখতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন ৮ সরকারি কর্মকর্তা!


এসি চালানো শিখতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন ৮ সরকারি কর্মকর্তা!


সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের আটজন শীর্ষ কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। তাদের সফরের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৫ মার্চ। তিন দফা পরিবর্তনের পর এ তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
 

 

কর্মকর্তাদের এই সরকারি সফরের অফিসিয়াল প্রোগ্রামের নাম ‘হিটিং, ভেন্টিলেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) সিস্টেম ট্রেনিং’। এতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকসহ মোট আটজন কর্মকর্তা অংশ নেবেন। সংবাদমাধ্যম কালবেলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
 

তবে যে প্রকল্পের অর্থায়নে কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন, সেই প্রকল্পের অগ্রগতি আশানুরূপ নয় বলে জানা গেছে। প্রকল্পটির ব্যয় ইতোমধ্যে দুই দফা বাড়িয়ে ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা থেকে ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
 

অন্যদিকে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে এইচভিএসি সিস্টেম বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে কর্মকর্তারা যাচ্ছেন, সেই সিস্টেমের কাজ ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
 

এছাড়া সফরে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশরাফুল হকের চাকরির মেয়াদ কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, সফরে অংশ নিতে যাওয়া কর্মকর্তাদের অনেকেই সরাসরি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত নন। এমনকি নির্মাণ-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমেও তাদের সম্পৃক্ত থাকার সম্ভাবনা নেই। এ কারণে সফরটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
 

নথিপত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডানহাম-বুশ এই সফরের সব ব্যয় বহন করবে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী চিলার ও এইচভিএসি সিস্টেম সরবরাহ করে এবং বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম সরবরাহ করেছে। দেশের কয়েকটি বড় শপিংমলেও তাদের সরঞ্জাম ব্যবহৃত হচ্ছে।
 

তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ে সফর করলে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতি এক ধরনের দায়বদ্ধতা তৈরি হতে পারে। এতে সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।
 

যুক্তরাষ্ট্র সফরের জন্য ছাড়পত্র পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন—গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশরাফুল হক, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) কাজী মো. ফিরোজ হোসেন, প্রকল্প পরিচালক ড. মো. তৌফিক হাসান ফিরোজ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মো. আশরাফুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নাজমুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ, নির্বাহী স্থপতি সিদ্দিকা নাসরিন সুলতানা এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রিসালাত বারি।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬