ফতুল্লায় সাত বছর বয়সী শিশু মুস্তাকিন এর অপহরণ পরবর্তী হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতার।

জিহাদ হোসেন,বিশেষ প্রতিনিধি (নারায়ণগঞ্জ):-
গত ৫ জানুয়ারি ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ বিকাল আনুমানিক ১৫ টা ৩০ ঘটিকার সময় ফতুল্লা থানাধীন লামাপাড়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে শিশু মোঃ মোস্তাকিন নিখোঁজ হয় । শিশু মোহাম্মদ মোস্তাকিনকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে তার পিতা মোঃ হাসিম হোসেন (২৮) গত ০৬/০১/২০২৫ খ্রিস্টাব্দে একটি নিখোঁজ জিডির আবেদন করেন । অপহরণকারীরা শিশু মোস্তাকিনের বাবার নিকট মুক্তিপণ দাবি করে এবং মুক্তিপণ না দিলে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে। যার প্রেক্ষিতে মোস্তাকিন এর পিতা মোঃ হাসিম হোসেন বাদী হয়ে ফতুল্লা থানার মামলা নং-১৭, তারিখঃ ১৪/০২/২০২৫ খ্রিঃ; ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সং/২০২০) এর ৭ ধারা ও পেনাল কোড ৩০২/২০১/৩৫ দায়ের করেন। উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে ফতুল্লা থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক শিশু মোহাম্মদ মোস্তাকিনকে উদ্ধার এবং আসামি গ্রেফতারের জন্য তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
অতঃপর নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জনাব প্রত্যুষ কুমার মজুমদার মহোদয় ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) জনাব তারেক আল মেহেদী এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, নারায়ণগঞ্জ "ক" সার্কেল জনাব মোঃ হাসিনুজ্জামান মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক ফতুল্লা থানার আভিযানিক টিম এসআই মোঃ রফিক, বিপিএম সঙ্গীয় অফিসার এসআই শামীম ও ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করেন। বিশ্বস্ত সোর্স ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শিশু মোঃ মুস্তাকিন (৭) অপহরণের ঘটনায় আসামি নুর মোহাম্মদ ওরফে শাহআলমকে ১৮/০৩/২০২৫ তারিখ সকাল ০৯.১০ ঘটিকার সময় ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার সামনে হতে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত আসামি নুর মোহাম্মদ ওরফে শাহআলমকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্য মতে ও ধৃত আসামিকে সাথে নিয়ে ১৮/০৩/২০২৫ তারিখ বেলা ১২.১০ ঘটিকায় দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযানে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানাধীন কাচিজোড়া নামক এলাকা হতে অপর আসামি মোঃ তানজিল আহমেদ মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়।
ধৃত আসামিদ্বয়কে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় যে, মামলার ভিকটিম মোঃ মুস্তাকিন (০৭) এর বাবার নিকট থেকে মুক্তিপণ পাওয়ার আশায় এবং ভিকটিমের বাবার সাথে পূর্ব শত্রুতার জেরে শিশুটিকে অপহরণ করে । পরবর্তীতে ঘটনা জানাজানির ভয়ে আসামিদ্বয় অপহৃত শিশু ভিকটিম মোঃ মুস্তাকিনকে হত্যা করে গুম করার উদ্দেশ্যে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। আসামিদের দেওয়া তথ্য যাচাই বাছাই শেষে জানা যায়, গত ১৮/০১/২০২৫ তারিখ দুপুর ১৩.১০ ঘটিকার সময় ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন কুন্ডা ইউনিয়নের কাওটাইল ০৫নং ওয়ার্ডের বাইতুল জান্নাত জামে মসজিদের সামনে জঙ্গলের ভিতর অত্র মামলার অপহৃত শিশু ভিকটিম মোঃ মুস্তাকিন (০৭) এর লাশ গুম করে রাখে। পরবর্তীতে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ শিশুটির লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে এবং পোস্ট মর্টেম করে। তাৎক্ষণিকভাবে লাশের পরিচয় না পাওয়ায় অজ্ঞাতনামা লাশ হিসেবে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার মামলা নং-৩৭, তারিখ: ২০/০১/২০২৫খ্রিঃ, ধারাঃ ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয় যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
পরবর্তীতে ধৃত আসামি মোঃ তানজিল আহমেদ মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তি মোতাবেক আসামিকে সাথে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে ১৮/০৩/২০২৫ তারিখ বিকাল ১৬.৫০ ঘটিকার সময় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন লামাপাড়া (পশ্চিম) দরগাহ বাড়ী মসজিদ সংলগ্ন জনৈক আব্দুল সালাম এর বাড়ীর টিনশেড ঘরের ভাড়াটিয়া আসামি মোঃ তানজিল আহমেদ মোল্লা এর রুম হতে আসামির দেখানো মতে অত্র মামলার অপহৃত ভিকটিমকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ০১ (এক)টি স্টিলের বাটযুক্ত সুইচ গিয়ার চাকু অগ্রভাগ ধারালো ও সুচালো উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়। উল্লেখ্য যে, বাদী ও তার পরিবারের লোকজন ডিসিস্ট এর লাশ ও পরিহিত কাপড় চোপড় দেখে লাশ সনাক্ত করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫