|
প্রিন্টের সময়কালঃ ১১ মার্চ ২০২৬ ০৩:০১ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ১১ মার্চ ২০২৬ ১২:১৬ অপরাহ্ণ

শিল্পপতির বাড়িতে গুলিবর্ষণ: সাজ্জাদ বাহিনীর তিন সদস্য এসএমজিসহ গ্রেপ্তার


শিল্পপতির বাড়িতে গুলিবর্ষণ: সাজ্জাদ বাহিনীর তিন সদস্য এসএমজিসহ গ্রেপ্তার


চট্টগ্রামে এসএমজি (সাব মেশিনগান), পিস্তল ও রিভলবারসহ সাজ্জাদ বাহিনীর তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার এই ব্যক্তিরা বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলো দিয়েই কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীর বাসায় গুলি করা হয়েছিল। এর মধ্যে পিস্তল ও রিভলবার থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র।

 

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে ইমন, মোহাম্মদ মনির ও মোহাম্মদসায়েম। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

 

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগর পুলিশের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।

 

তিনি বলেন, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নগরের চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বাসায় গুলি করে সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনায় উদ্ধার করা তিনটি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলে গ্রেপ্তার তিনজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর ব্যালিস্টিক পরীক্ষায় বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

পুলিশ কর্মকর্তা ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, উদ্ধারকৃত তিনটি অস্ত্রের মধ্যে পিস্তল ও রিভলভার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নগরের ডবলমুরিং ও পাহাড়তলী থানা থেকে লুট হয়েছিল। এ ছাড়া এসএমজি খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী থেকে কেনার কথা স্বীকার করেছে গ্রেপ্তার সন্ত্রাসীরা।

 

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকবাজার থানা–পুলিশের একটি দল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে ইমনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চকবাজার এলাকা থেকে একটি বিদেশি থ্রি-টু বোর রিভলবার ও ৯টি গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি সিএমপির পাহাড়তলী থানা থেকে লুট করা হয়েছিল। আব্দুল কাইয়ুম ২০০০ সালে বহদ্দারহাটে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর আট হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং বড় সাজ্জাদ গ্রুপের অন্যতম সহযোগী।

 

তিনি আরও বলেন, মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশ থানার একটি দল অভিযান চালিয়ে ব্রাজিলিয়ান টরাস নাইন এমএম পিস্তল ও একটি মোটরসাইকেলসহ মনিরকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি সিএমপির ডবলমুরিং থানা থেকে লুট করা হয়েছিল। মনিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে তার সহযোগী সায়েমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সায়েমের দেখানো মতে খুলশী থানা এলাকা থেকে একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৫০টি গুলি উদ্ধার করা হয়।

 

পুলিশ কর্মকর্তা ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনই শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। তারা সাজ্জাদের নির্দেশে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি এবং বালুমহাল নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্রভাবে অংশ নিত। আসামি আব্দুল কাইয়ুমের কাছ থেকে সাজ্জাদ গ্রুপের নতুন সদস্যদের শপথ গ্রহণ–সংক্রান্ত একটি ভিডিও ক্লিপও উদ্ধার করা হয়েছে।

 

গ্রেপ্তার মনির ও সায়েমের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে ১০টি করে মামলা রয়েছে। গত ১ মার্চ সকালে শিল্পপতির বাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬