ঢাকা প্রেস নিউজ
গণমাধ্যমকে স্বাধীন, শক্তিশালী ও বস্তুনিষ্ঠ করতে সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন নবম গ্রেডে বেতন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেন কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ।
তিনি বলেন, "সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তা দিতে হবে। যদি তা না দেওয়া হয়, তাহলে অনেকে অনৈতিক কাজে জড়াতে বাধ্য হয়। যদিও বেতন-ভাতার ওয়েজবোর্ডে আমাদের এখতিয়ার নেই, তবে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।" কামাল আহমেদ জানান, সাংবাদিকদের বেতন ন্যূনতম নবম গ্রেড অনুযায়ী নির্ধারণ করার পাশাপাশি রাজধানীতে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য ঢাকা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
কমিশনের প্রধান আরও বলেন, "বিসিএস ক্যাডারদের এন্ট্রি ৯ম গ্রেডের যে বেতন, সাংবাদিকদের শুরুর বেতন তা সমান হওয়া উচিত।" এছাড়া, ঢাকায় 'ঢাকা ভাতা' দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "সাংবাদিকতা করতে হলে ন্যূনতম স্নাতক পাসের যোগ্যতা থাকতে হবে এবং প্রথমে ‘শিক্ষানবিশ সাংবাদিক’ হিসেবে এক বছর কাজ করতে হবে। পরবর্তীতে তাদের প্রমোশন দেওয়া হবে।"
এছাড়া, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য "সাংবাদিকতা সুরক্ষা আইন" তৈরির সুপারিশও করা হয়েছে, যার খসড়া ইতোমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। কামাল আহমেদ জানান, সরকার ৬০০ পত্রিকার তালিকা করেছে যারা সরকারি বিজ্ঞাপন পাওয়ার যোগ্য, কিন্তু বাস্তবে প্রকাশিত ও বিক্রিত পত্রিকার সংখ্যা মাত্র ৫২টি। অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণা করে সরকারি বিজ্ঞাপন নেয়া হচ্ছে।
কমিশন প্রধান আরও বলেন, "গণমাধ্যমে কালো টাকা প্রবাহিত হয়েছে এবং রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে গণমাধ্যমের মালিকানা দেওয়া হয়েছে।" তিনি জানান, "সকল টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর আবেদন জনস্বার্থে নয়, বরং রাজনৈতিক পরিচয়ে দেওয়া হয়েছে।"
এছাড়া, একটি প্রতিষ্ঠান একাধিক গণমাধ্যমের মালিক হতে পারবে না এমন প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। "ওয়ান হাউস ওয়ান মিডিয়া" নীতির পাশাপাশি, বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বেতারকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত করতে হবে এবং দুটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা গঠন করার প্রস্তাবও এসেছে।
অবশেষে, অনলাইন পোর্টালগুলোর জন্য ৭ দফা সুপারিশ করা হয়েছে, যা গণমাধ্যমের আরও উন্নয়ন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।