কাজের অতিরিক্ত চাপ? সুস্থ থাকতে মেনে চলুন কিছু কার্যকর উপায়
অনলাইন ডেস্ক
বর্তমান কর্মজীবনে অনেকেই অতিরিক্ত কাজের চাপে পড়ছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অফিসের কাজ সামলানো, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডেডলাইন পূরণ করতে গিয়ে অনেককে রাত জেগেও কাজ করতে হয়। তবে দীর্ঘদিন এভাবে কাজ করলে তা শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত রাত জেগে কাজ করলে ঘুমের স্বাভাবিক রুটিন নষ্ট হয়ে যায়। এর পাশাপাশি ক্ষুধামন্দা, রক্তচাপ বৃদ্ধি, বিরক্তিভাব বা খিটখিটে মেজাজের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এ অভ্যাস চলতে থাকলে আরও বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
পারিবারিক জীবনেও প্রভাব
অফিসের অতিরিক্ত কাজের চাপ শুধু শরীরেই নয়, পারিবারিক জীবনেও প্রভাব ফেলে। যারা নিয়মিত রাত জেগে কাজ করেন, তাদের অনেকের ক্ষেত্রেই পরিবারকে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে পারিবারিক দায়িত্ব পালনেও ঘাটতি দেখা দেয়। এতে কর্মক্ষেত্র ও পারিবারিক দুই দিক থেকেই মানসিক চাপ তৈরি হয়।
সময় ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব
কাজের চাপ সামলাতে সময় ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি নাইট শিফটের কাজ না থাকে, তবে অফিসের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা করা উচিত। এতে পরিবারের জন্যও আলাদা সময় রাখা সম্ভব হয়।
আগেভাগে কাজের তালিকা তৈরি
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, পরের দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আগের রাতেই তালিকাভুক্ত করে রাখা ভালো। এতে কাজের পরিকল্পনা সহজ হয়। যদি অনেক কাজ জমে থাকে, তবে রাত জাগার বদলে ভোরে উঠে কাজ শুরু করা বেশি কার্যকর হতে পারে। সকালে মনোযোগ ও শক্তি সাধারণত বেশি থাকে।
অগ্রাধিকার অনুযায়ী কাজ
সব কাজ একসঙ্গে না করে কোনটি আগে শেষ করতে হবে তা ঠিক করা জরুরি। প্রতিটি কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী এগোলে কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সহজ হয়।
অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট এড়ানো
কাজের ফাঁকে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গেমে সময় কাটান। অল্প সময়ের বিরতি নেওয়া ভালো হলেও এটি নিয়মে পরিণত হলে কাজের সময় নষ্ট হয় এবং চাপ আরও বাড়ে। তাই আগে কাজ শেষ করে পরে অবসর কাটানোই ভালো।
জটিল কাজ আগে শেষ করা
যেসব কাজ তুলনামূলক কঠিন বা অন্যের সহযোগিতা প্রয়োজন, সেগুলো আগে শেষ করার চেষ্টা করা উচিত। এতে মানসিক চাপ কমে এবং পরবর্তী সহজ কাজগুলো দ্রুত শেষ করা যায়।
প্রয়োজন হলে ‘না’ বলুন
অনেক সময় সহকর্মীরা নিজেদের কাজ অন্যের ওপর চাপিয়ে দেন। সব ক্ষেত্রে সাহায্য করা সম্ভব না হলে ভদ্রভাবে ‘না’ বলতে শিখতে হবে। আগে নিজের গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করে পরে সহায়তা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা ও সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুললে কাজের চাপ সামলেও শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা সম্ভব।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬