জনরায়কে অবজ্ঞা করলে পরিণতি ভালো হয় না: ডা. শফিকুর রহমান
খুলনা/যশোর/সাতক্ষীরা/বাগেরহাট প্রতিনিধি—
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতীতে যারা জনগণের রায়কে সম্মান করেনি, তাদের পরিণতি ভালো হয়নি। জনগণের ওপর জোর খাটিয়ে বা দমন-পীড়নের মাধ্যমে হৃদয় জয় করা যায় না। জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাই টেকসই রাজনীতির একমাত্র পথ।
মঙ্গলবার বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খুলনা মহানগর ও জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে তিনি বলেন, যুবসমাজ পুরোনো ও ব্যর্থ রাজনৈতিক বন্দোবস্ত আর চায় না। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা রায় দিয়ে জানিয়েছে—তারা ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ চায়, ঐক্যের পক্ষে, বিভক্তির পক্ষে নয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের গায়ে হাত দেওয়া যায়, পিঠে চাবুক মারা যায়; কিন্তু জনগণের হৃদয় ও কলিজা জয় করা যায় না।’ তিনি আরও বলেন, জামায়াত কারও সঙ্গে অকারণে সংঘাতে যেতে চায় না, তবে উসকানি এলে তা মেনে নেওয়া হবে না। বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নারীকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জীবন দেব, কিন্তু মায়ের ইজ্জত দেব না। অপকর্ম করলে তার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা, অন্যদিকে নারীদের ওপর হামলা—এই দুই অবস্থান একসঙ্গে চলতে পারে না। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে জনগণের সম্পদ ও বাজেটের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের জন্য বেগমপাড়া বা সিঙ্গাপুর গড়ব না।’
সমাবেশ শেষে খুলনার ছয়টি আসনের জামায়াত প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন তিনি। খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ অন্যান্য নেতারা।
যশোরে বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য
এর আগে মঙ্গলবার সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত আরেক সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা নিজেদের দল সামলাতে পারে না কিংবা কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, দেশ পরিচালনায় তাদের ওপর আস্থা রাখা যায় না। তিনি বলেন, গণভোট হলে ফ্যাসিবাদ কায়েমের সুযোগ থাকবে না বলেই একটি দল এতে নাখোশ। কারণ গণভোট কার্যকর হলে দলীয় চাঁদাবাজি ও লুটপাট বন্ধ হবে। তিনি দাবি করেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষ গণভোটের পক্ষে।
যশোর জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা বক্তব্য দেন।
সাতক্ষীরায় লুণ্ঠিত সম্পদ উদ্ধারের অঙ্গীকার
মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় জামায়াতের আমির বলেন, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী দেশের বিপুল সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। তাদের সঙ্গে কোনো আপস হবে না। আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের লুণ্ঠিত সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীরা বক্তব্য দেন।
বাগেরহাটে রাজনীতির উত্তরাধিকার সংস্কৃতি বদলের ঘোষণা
বিকেলে বাগেরহাট খানজাহান আলী (রহ.) মাজার মোড়সংলগ্ন মাঠে সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘রাজার ছেলে রাজা হবে’—রাজনীতির এই উত্তরাধিকারভিত্তিক সংস্কৃতি বদলাতে চায় জামায়াত। যোগ্যতার ভিত্তিতেই দেশ পরিচালিত হবে। তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, ভোট নিয়ে কোনো অনিয়মের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা বক্তব্য দেন। একই সঙ্গে জামায়াত ক্ষমতায় এলে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশকে বন্ধু হিসেবে দেখতে চায় জামায়াতে ইসলামী।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬