|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০১ মার্চ ২০২৫ ০৩:১১ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৭:১৯ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে ভারত-পাকিস্তানপন্থিদের কোনো স্থান নেই: নাহিদ ইসলাম


বাংলাদেশে ভারত-পাকিস্তানপন্থিদের কোনো স্থান নেই: নাহিদ ইসলাম


বাংলাদেশে ভারত ও পাকিস্তানপন্থি রাজনীতির কোনো স্থান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
 

নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে সামনে রেখে, দেশের জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করব। ইতিহাসের গণ্ডি পেরিয়ে আমরা এক সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের কথা বলতে চাই।”
 

তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘তুমি কে, আমি কে, বিকল্প, বিকল্প’ স্লোগানের প্রতিফলনেই আমাদের নতুন দলের আত্মপ্রকাশ। আমরা আজকের মঞ্চ থেকে শপথ নিচ্ছি—বাংলাদেশকে বিভাজিত করা যাবে না।”
 

এরপর নাহিদ ইসলাম দলীয় ঘোষণাপত্র পাঠ করেন, যা সাংবাদিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘোষণাপত্রে বলা হয়:

সেকেন্ড রিপাবলিকের লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ
 

জুলাই ২০২৪-এ ছাত্র-জনতার বিপুল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে চলা ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটে। তবে এটি শুধুমাত্র একটি সরকারের পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার এবং জনগণের অধিকারভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতিফলন। সেই লক্ষ্যে আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিচ্ছি, যা হবে একটি গণতান্ত্রিক, সমতাভিত্তিক এবং জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল।
 

আমরা বিশ্বাস করি, জুলাই ২০২৪ গণ-অভ্যুত্থান আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার সূচনা করেছে। আমাদের অন্যতম লক্ষ্য হবে:

  • নতুন সংবিধান প্রণয়ন: গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান তৈরি করা, যা সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটাবে।
  • প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা: জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
  • প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন: ভেঙে পড়া রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ পুনরায় গড়ে তুলে তাদের গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষা করা।
  • রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন: পরিবারতন্ত্রের পরিবর্তে মেধা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব প্রদান, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি দূরীকরণ।
  • সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা: রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিককে সমান গুরুত্ব প্রদান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
  • অর্থনৈতিক পুনর্গঠন: কৃষি, সেবা ও উৎপাদন খাতের যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা। সম্পদের সুষম পুনর্বণ্টন নিশ্চিত করা এবং সিন্ডিকেট ও গোষ্ঠীস্বার্থ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন: উদ্ভাবনী সংস্কৃতি গড়ে তোলা ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা।
     

আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে প্রতিটি নাগরিকের কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হবে, যেখানে ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা হবে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।
 

ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে চলার শপথ

আমরা সবাই একসঙ্গে, হাতে হাত রেখে, সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে যাব। আমাদের দেশ, আমাদের অধিকার, আমাদের ভবিষ্যৎ—এই প্রতিজ্ঞার ওপর ভিত্তি করেই আমরা এগিয়ে চলব। এখনই সময় নতুন স্বপ্ন দেখার, নতুন পথচলার এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার!


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫