ঢাকা প্রেস নিউজ
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলয়ের মধ্যে থাকা সাবেক মন্ত্রী ও এমপিসহ বেশ কয়েকজনের বিপুল সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। তারা সেখানে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা (৪০ কোটি পাউন্ড) বিনিয়োগ করেছেন, যা পুরোপুরি বাংলাদেশ থেকে পাচার করা অর্থ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার (৩০ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠদের নামে প্রায় ৩৫০টি সম্পত্তি শনাক্ত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ফ্ল্যাট থেকে শুরু করে বিলাসবহুল ম্যানশন পর্যন্ত রয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগ কেনা হয়েছে অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানসহ আরও অনেকের নাম রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাজ্যের সারে এলাকায় ১ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড মূল্যের দুটি সম্পত্তি কিনেছেন। এ ছাড়া নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার লন্ডনের কেনসিংটনে ৩ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড মূল্যের পাঁচটি সম্পত্তির মালিক।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দুর্নীতির তদন্ত এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে সালমান এফ রহমান, সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং আহমেদ আকবর সোবহানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। তাদের অনেকের দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। অন্তর্বর্তী সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও এই প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করছে।