ঢাকা প্রেস নিউজ
আজ সারাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী ইপিআই কেন্দ্রের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে অসুস্থ শিশুদের এই ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না।
শনিবার দুপুর ১২টায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বছরে দুবার ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালনার ফলে ৯৮ শতাংশ শিশুকে এই ভিটামিন খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে ভিটামিন ‘এ’ অভাবজনিত অন্ধত্বের হার ১ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে এবং শিশু মৃত্যুর হারও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের দৃঢ় নেতৃত্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশের সব শিশুর অপুষ্টি দূরীকরণ ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করার ফলে দেশে অপুষ্টির হার কমেছে এবং শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হারও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। শুধু দেশেই নয়, বাংলাদেশ বিশ্ব নেতৃত্বের পুষ্টি ফোরামের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
স্বাধীনতার পর দেশে অপুষ্টিজনিত কারণে শিশুদের মধ্যে রাতকানা রোগের হার ৪.১০ শতাংশ ছিল। ১৯৭৪ সালে রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম চালু করে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। ধারাবাহিক কার্যক্রমের ফলে বর্তমানে রাতকানা রোগ প্রায় বিলুপ্তির পথে।
ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর সময় কিছু নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। শিশুকে খাওয়ানোর আগে অবশ্যই ভরাপেটে কেন্দ্রে নিতে হবে। টিকাকেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী বা স্বেচ্ছাসেবক ক্যাপসুলের মুখ কেটে শিশুকে সম্পূর্ণ তরলটি খাওয়াবেন। শিশু কাঁদলে বা জোর করে ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না।
ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য প্রতিটি উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে।