|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৪:৫২ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৪:২৬ অপরাহ্ণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল ক্রুড অয়েলে পারদের উপস্থিতি খুঁজে পেয়েছে


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল ক্রুড অয়েলে পারদের উপস্থিতি খুঁজে পেয়েছে


ঢাকা প্রেস নিউজ

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একদল গবেষক ক্রুড অয়েলে পারদের উপস্থিতি খুঁজে পেয়েছেন। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে এ তথ্য জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. নাজমা শাহীন।
 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. নাজমা শাহীন বলেন, "ক্রুড অয়েল পরীক্ষায় পারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা পরিশোধন (রিফাইন) করেও দূরীভূত করা সম্ভব হচ্ছে না।"
 

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশনের (গেইন) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফর্টিফাইড এডিবল অয়েলস: এনহ্যান্সিং হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন ফর এ বেটার ফিউচার’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি।
 

ড. নাজমা শাহীন আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল তেলের বিভিন্ন প্যারামিটার নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল অনুসারে, খোলা তেলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্যারামিটার আদর্শ মানের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ পাওয়া গেছে।
 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "নন-ব্রান্ডেড সয়াবিন তেলের সঙ্গে অন্যান্য তেল বা খারাপ উপাদান মেশানো হচ্ছে," যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের বিপদ সৃষ্টি করছে।
 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান রেস্তোরা মালিক সমিতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আপনারা একটি ঘোষণা দিন যে, আপনার রেস্টুরেন্টে খোলা তেল ব্যবহার করা হয় না।" তিনি আরও বলেন, এই ঘোষণা ভোক্তাদের জন্য সহায়ক হবে, যার মাধ্যমে তারা জানবে কোন তেল নিরাপদ এবং কোনটি নয়।
 

এছাড়া, তিনি ফর্টিফাইড ভোজ্যতেল ব্যবহারের জন্য মডেল উপজেলা গঠনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
 

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া বলেন, "প্রতি বছর ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ ভোজ্যতেল সম্পর্কিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।"
 

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব সুলতান আলম এবং গেইন’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. রুদাবা খন্দকার।
 

বিশেষ অতিথি সুলতান আলম স্বাস্থ্যগত সমস্যা মোকাবিলায় তেলের ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "তেলের ব্যবহার কমিয়ে স্বাস্থ্যগত দিক থেকে উন্নতি সাধন সম্ভব। এর জন্য প্রচারণা বাড়াতে হবে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।"
 

ডা. রুদাবা খন্দকার প্রমাণ সাপেক্ষে উপস্থাপিত ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "তরুণরা দেশের একটি বড় অংশ, তাই তাদেরকে এই কার্যক্রমে যুক্ত করে সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।"
 

সেমিনারে বিএফএসএ’র কর্মকর্তা, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, রেস্তোরা মালিক সমিতি, গেইন, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫